চণ্ডী লাহিড়ী
হাস্যরসিক সৈয়দ মুজতবা আলি নিজেকে নিয়ে প্রায়ই রসিকতা করতেন। যাঁরা তাকে নিকট থেকে দেখেছেন তাঁরা জানেন, আলি সাহেব বড়ো বেশি কথা বলতেন। তিনি বসে আছেন এবং বকবক করছেন না—এমন দৃশ্য বিরল। তাঁকে এজন্য প্রশ্ন করা হল—এত বকবক করেন কেন? ক্লান্তিবোধ করেন না?
—শোনো তবে। একবার এক টিকাদার আমাদের গ্রামের বাড়িতে এসেছেন। বাড়ির ছোটো বড়ো সবার টিকা দেবেন। টিকা দেবার সব সরঞ্জাম তাঁদের ছিল কিন্তু আসল বস্তুটি আনতে ভুলে গিয়েছিলেন। ল্যানসেটটি সঙ্গে নেই। তখন সব বাড়িতেই গ্রামোফোন ছিল। সেই গ্রামোফোনে ব্যবহার্য পিন এনে আমার মা বললেন—পিনগুলো স্পিরিট দিয়ে ধুয়ে তাই দিয়ে চিড়ে চিড়ে টিকা দিয়ে দিন। আমাকেও ওইভাবে হিজ মাস্টার্স ভয়েসের গ্রামোফোনে ব্যবহার্য পিন দিয়ে টিকা দেওয়া হল। সেই থেকে গ্রামোফোন রেকর্ডের মতো সর্বদাই বেজে যাচ্ছি।

তখন তিনি বিশ্বভারতীর অধ্যাপক। তাঁর কাছে অনুরোধ এল আরবি ভাষায় লেখা একটি চিঠির অনুবাদ করার। আলি সাহেব চিঠি পড়ে চিঠির উলটোপিঠে উত্তর লিখে দিলেন।
সভায় কিন্তু অভিযোগ উঠল, আলি নাকি চিঠির উত্তর দেননি।
আলি সাহেব সভায় বললেন, আপনি কি ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানেন না?
দেখা গেল, উলটো পিঠে আলি সাহেব খুব সংক্ষেপে উত্তর লিখে দিয়েছেন কিন্তু সেটা কেউ পড়ে দেখেনি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন