চণ্ডী লাহিড়ী
ঠাকুরবাড়ির রীতি ছিল জামাইদের ঘরজামাই করে রাখা। মহর্ষির কন্যাদের মধ্যে সরলা দেবী চৌধুরানিকে বাদ দিলে সবাই শ্বশুরগৃহ নির্ভর করে দিনাতিপাত করলেন। রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ কন্যা মাধুরীলতার বিয়ে হয়েছিল বিহারীলাল চক্রবর্তীর পুত্র শরৎচন্দ্র চক্রবর্তীর সঙ্গে। সেই বিহারীলাল যিনি সারদামঙ্গল লিখে রবীন্দ্রনাথকে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী ঘরজামাই হয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করাটা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। তিনি মজঃফরপুরে ওকালতি করতেন। প্রচুর উপার্জন ছিল তাঁর। দশ নম্বর ডিহি শ্রীরামপুরে ঘর ভাড়া নিয়ে তিনি সসম্মানে থাকতেন। রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ কন্যাকে দেখতে প্রায়ই ডিহি শ্রীরামপুরে জামাতাগৃহে যেতেন। এখানেই একদিন সিঁড়ি ভেঙে দ্বিতলের ঘরে যাওয়ার পথে বুঝতে পারেন কন্যা মাধুরীলতা আর নেই। কন্যাশোকে অধীর কবি সিঁড়িতেই বসে পড়েন। সেরাতে তিনি আর জোড়াসাঁকোয় ফেরেননি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন