চণ্ডী লাহিড়ী
পালকি বহন করত এ রাজ্যের দুলে বেহারারা। দোলা থেকে দুলে, বহনকারী অর্থাৎ বেহেরা। পরে রাজা নবকৃষ্ণ ওড়িষ্যার নিজ জমিদারি থেকে ওড়িয়া বেহারার আমদানি করেন খরচ কমানোর জন্য। ১৮২৪ সালে এই ওড়িয়া বেহারারা ধর্মঘট করে।
প্রথমে বেশ বাধ্য থাকলেও, এই বেহারারা যাত্রীদের ওপর ক্রমেই জুলুম করতে থাকে। সরকার ঠিক করে দেওয়া ভাড়ার চার্ট তারা মানত না। মাইনেও যেমন খুশি চাইত। ইংরেজ সরকার যাত্রীদের মুখ চেয়ে হুকুম দিলেন—ভাড়ার চার্ট মানতে হবে। বেহারারা পিতলের চাকতি হাতে পরবেন। তাতে নম্বর থাকবে। অন্যায় করলে সেই নম্বর ধরে যাত্রীরা রিপোর্ট করবেন। বেহারারা এই পিতলের চাকতি পরতে রাজি হলেন না। এটা পরলে তাদের জাত যাবে, সম্মানহানি হবে। সরকার বেশি চাপ দেওয়ায় বহু বেহারা দেশে চলে গেল।
এই সময় ব্রাউনিলো সাহেব নিজের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগালেন। নিজের পালকির ডাণ্ডা খুলে নিয়ে তার সঙ্গে চাকা জুড়লেন। সেই চাকা-পালকি টানলো ঘোড়ায়। নতুন গাড়ির নাম হল ব্রাউন বেরি। দেখতে দেখতে সারা কলকাতার বহু পালকিতে চাকা জুড়ে গাড়ি বানানো হল।
অবস্থা বেগতিক দেখে, ওড়িয়া বেহারারা দেশ থেকে একে একে চলে এল। কলকাতায় ঘোড়ার গাড়ি এবং পালকি পাশাপাশি চলতে থাকল।
গ্রিনফিল্ড সাহেব (১৮৭৫-৭৬) ব্রাউনবেরি গাড়িতে পা-দানি জুড়লেন। দু-পাশে আলো এবং বসার আরামের জন্য ভালো তাকিয়া জুড়ে ব্রাউনবেরির এক উন্নত সংস্করণ প্রবর্তন করলেন। এর নাম হল গ্রিনফিল্ড। এই গ্রিনফিল্ড ব্যক্তি মালিকানার চেয়ে ভাড়া খাটতো বেশি। গ্রিনফিল্ড ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রচুর গাড়ি বানিয়েছিল হেস্টিংস অঞ্চলে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন