চণ্ডী লাহিড়ী
আনা ফ্রাঙ্ক ডায়েরির আদি নাম The Diary of a girl। প্রচারের চোটে এটি আনা ফ্রাঙের ডায়েরি নামে খ্যাতি পায়। হিটলারের শাসনকালে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের ভয়াবহ বর্ণনা যত আছে, তার চেয়েও বেশি লেখা হয়েছে তার বাবার অফিসের গোপন কক্ষে আত্মগোপন করে বসবাসের কথা। সিঁড়িতে কারও পায়ের শব্দ পেলেই গোটা পরিবার নীরব হয়ে যেত। দরজায় কারও করাঘাত মানেই নাজিদের কারও আগমন ধরে নিয়ে সবাই ঠকঠক করে কাঁপত।

শেষ পর্যন্ত তাঁরা ধরা পড়ে যান। আনা যখন ধরা পড়েন তখন তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসার কোনো সুযোগ ছিল না। তাছাড়া অসউইজের অগ্নিকুন্ডে তো তাদের পুড়িয়ে মারা হবে। চিকিৎসা করে ওষুধ এবং সময় নষ্ট করে লাভ কী?
আনা কিন্তু অসউইজের আগুনে পুড়ে মরেননি। অপুষ্টিতে আগের দিন মারা যান। ১৫ বছরের রুগ্না কিশোরীর বাবা অটো ফ্রাঙ্ক ডায়েরির পাতা সুইস ভাষায় অনুবাদ করে (মনে হয় জার্মান থেকে ইংরেজিতে) তাঁর আত্মীয়দের কাছে পাঠান। বাবা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সুইজারল্যাণ্ড থেকে সেই ডায়েরি বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় প্রচারিত হয়। ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে তো নিশ্চয়ই, এই ডায়েরির সাহিত্যমূল্যও প্রচুর। যুদ্ধ তো ১৯৪৫ সালে শেষ হয়েছে। আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরির পাঠক এখনও সংখ্যায় প্রচুর।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন