চণ্ডী লাহিড়ী
হেনরি মুর (১৮৯৮-১৯৮৬) ছিলেন জগৎবিখ্যাত ভাস্কর। জীবদ্দশাতেই কিংবদন্তীতে পরিণত হয়েছিলেন। তাঁর জানালার সামনেই ছিল বাগান। সেখানে ঘাসের ওপর কয়েকটি ভেড়া নিয়মিত চরে বেড়াত। মাঝে মাঝে একটি ভেড়া একটি গাছে গা ঘসত। হেনরি মুরের মনে হল, ভেড়াটি গাছের গায়ে পিঠ ঘসে তেমন আরাম পাচ্ছে না। একটি পাথরকে ঘসে মসৃণ করে ঘাসের মাঝখানে বসালেন। ভেড়ারা এতে অবশ্য আরাম পেল। লণ্ডন থেকে এল এক শিল্প সমালোচক। তিনি পাথরটি দেখে ভাবলেন এটি এক অসাধারণ শিল্পকর্ম। দেশবিদেশের কাগজে সেই পাথরের ছবি বের হল। মুর জানালেন এটি তাঁর কোনো শিল্পকর্ম নয়। কিন্তু কে শোনে তাঁর কথা।

ভাস্কর হেনরি মুর খুব ভালোবাসতেন তাঁর মাকে। মায়ের শিরদাঁড়ায় প্রায়ই ব্যথা হত। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যেতেন। মাকে একটু আরাম দেবার জন্য তাঁর কোমর পর্যন্ত শিরদাঁড়ায় হাত বুলিয়ে দিতেন। সেই ছায়া পড়েছিল তাঁর অবচেতনে। পরে একাধিক নারী ভাস্কর্যে অনাবৃত যে-মহিলার ভাস্কর্য পাওয়া গিয়েছে তাতে শিরদাঁড়া খুব প্রাধান্য পেয়েছে। প্রায়ই নির্মিত পুতুলের পিঠে হাত বুলিয়ে বলতেন, এই ভাস্কর্যের পিঠে হাত বুলিয়ে আমি আজও মাতৃস্নেহের স্পর্শ পাই।
হেনরি মুর বিশ্ববিখ্যাত ভাস্কর হলেও বিশ্বের বড়ো বড়ো মিউজিয়মগুলিতে তাঁর নির্মিত মূর্তি কমই আছে। হেনরি চাইতেন, সাধারণ মানুষ অধিক সংখ্যায় তাঁর সৃষ্টি দেখুক। মিউজিয়মের চেয়ে পার্কে, ময়দানে, স্কুল-কলেজের সামনে তিনি তাঁর সৃজনকর্ম বসিয়ে গিয়েছেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন