চণ্ডী লাহিড়ী
জরুরি অবস্থার সময় বিখ্যাত মার্কিন ফিলম পরিচালক এলিয়া কাজান ভারতে এসেছিলেন। পুরোনো দিল্লির কয়েকটি অঞ্চল ঘুরে তিনি লক্ষ করলেন— জরুরি অবস্থা নিয়ে দোকানিরা খুব আলোচনা করছে। প্রকাশ্যেই সবাই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নিন্দা করছে। হাত-পা নেড়ে তাদের একজন বলছে— ইয়া আল্লা, ইয়ে আওরৎ তো ডিক্টেটর হ্যায়। কথাটি কানে যেতেই কাজান ফিরে দাঁড়ালেন। ডিক্টেটর কাকে বলে লোকটি জানে তো!
—তুমি তো প্রকাশ্যেই ভদ্রমহিলাকে গালিগালাজ করছ। এর পরিণাম জানো?
গালাগালি সত্ত্বেও সরকার তার গায়ে হাত দেবে না। এটা লোকটি জানে। কাজান বললেন—ইন্দিরাকে একজন ডিক্টেটর হিসেবে মার্কিন সরকার প্রচার চালাচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হুমকির কাছে ইন্দিরা মাথা নত করেননি। ভারতীয়রা বিনা প্রশ্নে মার্কিন প্রচারের কাছে আত্মসমর্পণ করছে।

ডিক্টেটর কাকে বলে এরা জানে না। মাঝরাতে অচেনা ভারী বুটের আওয়াজ— দরজায় টোকা। কালো মুখোশধারী মানুষ এসে তুলে নিয়ে যাবে কালো গাড়িতে। কোনো পরোয়ানা না দেখিয়েই।
যাকে তুলে নেবে সেচিরদিনের মতো নিখোঁজ হয়ে যাবে। গৃহস্থ সারারাত জেগে থাকবে। কখন দরজায় টোকা পড়ে কে জানে! নিজের ঘরের দেওয়ালে নিজের ছায়া দেখলেই গা ছমছম করবে।
এদেশে তেমন কিছুই ঘটেনি। এখানে ইন্দিরা সরকারকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করা যায়। জরুরি অবস্থা হলেও সব মানুষই প্রচুর স্বাধীনতা ভোগ করছে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন