চণ্ডী লাহিড়ী
আদালতে সন্ধ্যা-র সম্পাদক ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়ের বিচার চলছে। বিচারক মি. কিংসফোর্ড। ব্রহ্মবান্ধব ইংরেজের তৈরি কোনো আদালতে কোনো সাক্ষ্য বা কৈফিয়ত দেবেন না। ভয়ানক জেদি এই ব্রাহ্মণ। প্রথমে আদালত ভবনে কিছুদিন বিচার অর্থাৎ নানাভাবে জেরা চলার পর ব্রহ্মবান্ধব বড়োই অসুস্থ বোধ করলেন। বহুদিন থেকেই তিনি হার্নিয়ায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হল।
বিচারক কিংসফোর্ড ঠিক করলেন, হাসপাতালের মধ্যেই আদালত বসাবেন। অসুস্থ ব্রহ্মবান্ধব হাসপাতালেও বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারবেন না এবং সেজন্য হয়তো জেদি মনোবল ভেঙে যাবে। সাধারণত বিকেল চারটেয় আদালত বন্ধ হয়। ব্রহ্মবান্ধবকে বিপদে ফেলার জন্য কিংসফোর্ড ইচ্ছা করেই এজলাস রাত আটটা পর্যন্ত খোলা রাখলেন। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর মুখ থেকে একটি কথা বের করা গেল না। একটা কথাই তিনি বার বার বললেন— ইংরেজদের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেবেন না।
ব্রহ্মবান্ধবের উকিল চিত্তরঞ্জন দাশ আদালতে বললেন—তাঁর মক্কেল গুরুতর অসুস্থ। দাঁড়িয়ে থাকা বেশিক্ষণ সম্ভব নয়। তা ছাড়া, অকারণে সন্ধ্যার পরও আদালত চালিয়ে যাওয়া নিয়মবিরুদ্ধ। আদালত অবিলম্বে ব্রহ্মবান্ধবের বসার ব্যবস্থা করুক।
বিচারক কিংসফোর্ড জানালেন—সেটা সম্ভব নয়।
সেক্ষেত্রে আমিও কাল থেকে আপনার আদালতে আসব না।
চিত্তরঞ্জন সত্যিই আর আসেননি। বিচারে একতরফা ভাবে ব্রহ্মবান্ধবের জেল হয়। ব্রহ্মবান্ধবকে সত্যিই কারাবাস করতে হয়নি। আদালতেই তিনি শুয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। একে ব্রাহ্মণ, তায় অনশনে আদালতকক্ষেই মৃত্যু—সমগ্র ব্যাপারটাই অন্য মাত্রা পেয়ে গেল।
কিংসফোর্ডকে মারার জন্য তৈরি হল ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন