চণ্ডী লাহিড়ী

নবম সিম্ফনির উদ্বোধন। যিনি সেই সিম্ফনি রচনা করছেন তিনি পূর্ণ বধির। সিম্ফনি রচনায় বিশ্বখ্যাতি তাঁর। গোটা দুনিয়ার সংগীত-রসিকরা লুডোভিক ফন বিটোফেনকে সিম্পনির সম্রাট বলে মানেন। বিটোফেন থাকতে চান সেই খ্যাতির মুকুট মাথায় নিয়ে। জেদ ধরেছিলেন সেই নবম সিম্ফনি তিনিই কণ্ডাক্ট করবেন। অথচ তিনি একেবারে বধির। তাঁকে বলা হল না, একজন কণ্ডাক্টর নিয়োগ করা হল, যাকে বিটোফেন দেখতে পাবেন না। ভক্তদের ধারণা, তিনি নিজে কণ্ডাক্ট করছেন। এই ধারণাটা তাঁর মনেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। মৃত্যু যে তাঁর আসন্ন সবাই সেটা জানে। তিনিও জানেন মৃত্যু অনতিদূরে—তবু নিজের তৈরি সিম্ফনি নিজেই কনডাক্ট করে মৃত্যুকে বরণ করবেন। বীরের মতোই মৃত্যুর মুখোমুখি হবেন তিনি। তিনি সিম্ফনি কণ্ডাক্ট করলেন।
১৭ বছর বয়সে মা মারা যান। পাঁচ বছর পর বাবা। সংসারের দায়িত্ব তাঁর ঘাড়ে। ১৮১৫ সালে হারিয়েছেন ভাইকে। বিটোফেন একা—নি:সঙ্গ। কথায় কথায় চটে যান। সামান্য বিষয়েও জিদ ধরেন। এদিকে পেটে পচন ধরেছে। সেখান থেকে আক্রান্ত হয়েছে শ্রবণ-যন্ত্র। এখন তিনি পূর্ণ বধির। দাঁড়াতেও পারেন না—এতই দুর্বল। তবু দুনিয়ার লোক জানলে বদ্ধকালা বিটোফেন কানে শুনতে না পেলেও নবম সিম্ফনি পরিচালনা করেছেন। তিনি যে ক-দিন বেঁচেছিলেন, বহির্বিশ্বেও কাউকে বলা হয়নি—আড়ালে আর একজন কালো কোট পরে হাতে স্টিক নিয়ে বাজিয়েদের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের অনন্য সংগীত প্রতিভা মৃত্যুবরণ করলেন এই সান্ত্বনা নিয়ে যে নবম সিম্ফনি তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই কনডাক্ট করেছেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন