চণ্ডী লাহিড়ী
মাইকেল মধুসূদন মাতাল ছিলেন কিন্তু চরিত্রহীন ছিলেন না। কেবল মদ খাওয়ার জন্য কোনো উকিল ব্যারিস্টারকে আদালত থেকে সাসপেণ্ড করা যায় না, যদি না সেমাতলামি করে। প্রধান বিচারপতি সার বার্নস পিককের সঙ্গে মাইকেল মধুসূদনের আসল বিরোধের কারণ, মাইকেলের অসাধারণ ইংরেজি জ্ঞান এবং বিচারপতির ভাষাজ্ঞানে কিছু ঘাটতি। মধুসূদন প্রকাশ্যে কটাক্ষ করেছিলেন।

বিচারপতি বার্নস পিকক সোজা পথে সুবিধা করতে না পেরে মাইকেলকে ‘চরিত্রহীনতা’র অপরাধে আদালতের ‘বার’ থেকে বহিষ্কার করেন।
প্রথমে মার্বেল প্যালেসের ‘রাজা’ রাজেন মল্লিক পিছনে থেকে জনমত গঠন করে পিকককে চাপ দিলেন এই অন্যায় আদেশ প্রত্যাহার করতে। পিকক রাজি হলেন না।
কলকাতার বিশিষ্ট নাগরিকরা মাইকেলকে শাস্তি না দেওয়ার জন্য যৌথভাবে আবেদন করেছিলেন। তাতে স্বাক্ষর করে ছিলেন প্রিন্স গোলাম মহম্মদ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যসাগর, মনমেহান ঘোষ, প্রসন্ন কুমার সর্বাধিকারী, রাজেন্দ্রলাল মিত্র, টেকচাঁদ ঠাকুর, রমানাথ ঠাকুর। এঁরা এক বাক্যে মাইকেল সম্পর্কে বললেন— a gentleman of good and respectable character and ability.
কিন্তু এই আবেদনে পিকক কর্ণপাত করলেন না। এবার কাজে নামলেন স্বয়ং রাজেন্দ্র মল্লিক।
পিকক জানলেন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক রাজেন্দ্র মল্লিকের বন্ধু। ‘রাজা’ উপাধি না থেকেও তাঁর সম্মান মহারাজার মতো। রাজেন্দ্র মল্লিক স্বাক্ষর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিকক মাথা নত করলেন। প্রত্যাহার করে নিলেন নিষেধাজ্ঞা। মাইকেল ফিরে গেলেন ‘বারে’।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন