চণ্ডী লাহিড়ী
সেকালে বিদেশি চিত্রকরেরা কলকাতা আসতেন রাজামহারাজাদের তৈলচিত্র আঁকার জন্য। সেটা ফটোগ্রাফির যুগ নয়। ছবি আঁকাটাই তো চিত্রকরদের একমাত্র রোজগার। সব চিত্রকরই যে খুব খ্যাতিমান, তা নয়। পাইকপাড়ার রাজা ঈশ্বরচন্দ্র সিংহের দরবারে এরকম একজন চিত্রকর এসে সিংহ পরিবারের জন্য কিছু তৈলচিত্র করলেন। রাজা ঈশ্বরচন্দ্র সিংহের পরমবন্ধু ছিলেন পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। রাজার ইচ্ছা হল তাঁর বন্ধু দিগবিজয়ী পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্রের একটি তৈলচিত্র আঁকিয়ে নেন। হল সেকাজ। এবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের খুব ইচ্ছা হল, নিজের বাড়ির সবার তৈলচিত্র আঁকিয়ে রাখবেন। মেদিনীপুরের গ্রামে লোক পাঠিয়ে নিজ বাবা মা ও স্ত্রীকে কলকাতায় আনালেন। সাহেব শিল্পী বিদ্যাসাগরের বাবার ছবি করলেন। গোল বাধল মায়ের ছবি নিয়ে। কিছুতেই তিনি মাথার ঘোমটা খুলবেন না।
অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর বিদ্যাসাগরমশাই মাকে বললেন, তুমি মরে গেলে তোমার মুখ তো আমার মনে পড়বে না। তোমায় স্মরণ করবো কী করে!
ভগবতী দেবী অগত্যা রাজি হলেন। কিন্তু বিদ্যাসাগর চেষ্টা করেও নিজের স্ত্রীর মুখের ঘোমটা সরাতে পারলেন না। এ কারণে তাঁর মা ভগবতী দেবীর ছবি পাওয়া গেলেও, বিদ্যাসাগর-পত্নী দিনমণি দেবীর কোনো ছবি পাওয়া যায়নি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন