চণ্ডী লাহিড়ী
মোহিতলাল মজুমদার ও সজনীকান্ত দাস ছিলেন একসময় ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শনিবারের চিঠি-র প্রকাশকালে এবং তার সম্পাদনার ব্যাপারে মোহিতবাবুর সহযোগিতার কথা সজনীবাবু কোনোদিনই ভোলেননি। মোহিতবাবু ছিলেন বদরাগী, পরমত অসহিষ্ণু এবং বড়োই একগুঁয়ে প্রকৃতির। সামান্য কারণে সজনীবাবুর সঙ্গে তাঁর মতভেদ হওয়ায় মোহিতবাবু শনিবারের চিঠি এবং সজনীকান্ত দাসের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন এবং কারণে-অকারণে শনিবারের চিঠি ও তার সম্পাদককে নিন্দা করতে শুরু করেন। সজনীকান্ত এই ব্যবহারে বেদনাবোধ করেছিলেন। মোহিতলাল এতই চটেছিলেন যে, জানিয়ে দেন, জীবদ্দশায় সজনীকান্তের মুখদর্শন করবেন না।
এরপর, মোহিতলাল গুরুতর রোগে শয্যাশায়ী হলেন। রোগ বেড়েই চলল একরকম বিনা চিকিৎসায়। সজনীবাবু থাকতে পারলেন না। একরাশ উদবেগ বুকে নিয়ে তিনি রোজই বেলগাছিয়া থেকে রাজবল্লভপাড়ায় মোহিতবাবুর বাড়ির দরজা পর্যন্ত যেতেন। ভিতরে প্রবেশ করতেন না। কারণ রাগে উত্তেজনায় বন্ধুর হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হতে পারে।
এদিকে বাড়ির দরজা পর্যন্ত গিয়ে সারাদিন বসে থেকেও বন্ধুর কোনো খবর পেতেন না। শেষপর্যন্ত অজানা এক ব্যক্তিকে মোহিতলালের শুভার্থী সাজিয়ে ফুল টাকা ও ঔষধ পথ্য পাঠাতে শুরু করলেন। প্রতিবেশীরাও জানতেন না, মোহিতবাবুর দরজায় যে-ভদ্রলোক রোজ এসে বসে থাকেন তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক ও সম্পাদক সজনীকান্ত দাস। এই মোহিতলালের সুযোগ্যপুত্র চিত্র সমালোচক বন্ধুবর মনসিজ মজুমদার।
তারপর নিয়তির কাছে হার মেনে মোহিতলাল মারা গেলেন। সজনীবাবু শ্মশানে গেলেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে বন্ধুর যথোচিত দাহকার্য শেষ করলেন। তারপর সব কর্তব্য শেষ করে ফিরলেন নিজ কোণে।
এবার এই নিভৃতে শুরু হল তাঁর কান্না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন