চণ্ডী লাহিড়ী
করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ পড়ে বৃদ্ধ কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এতই মুগ্ধ হন যে, কবির সঙ্গে দেখা করে অভিনন্দন জানাবার জন্য একদিন সকালে বের হয়ে পড়েন। উত্তর কলকাতায় একটি বড়ো সর্পিল রাস্তায় (ডাফ স্ট্রিট) করুণানিধান বাস করতেন। এমন কিছু বিখ্যাত ব্যক্তি তিনি নন। দ্বিজেন্দ্রলাল প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে কড়া নেড়ে জানতে চাইলেন—এখানে করুণাবাবু থাকেন?

কয়েকটি বাড়িতে অনুসন্ধান চালিয়ে বেশ অপমানিত হলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেলেন। এক প্রবীণ কবি নবীন কবিকে জড়িয়ে ধরলেন।
একই ঘটনা ঘটেছিল প্রবোধকুমার সান্যালের জীবনে। দুর্বার উদ্যোগ নিয়ে অমৃতা প্রীতমকে দেখতে গিয়েছিলেন। নামে দুজনে দুজনকে চিনতেন। প্রবোধ কুমার শুনেছিলেন অমৃতা প্রীতম দিল্লির গ্রিন পার্কে থাকেন। পাড়ার প্রায় কেউই সেই বৃদ্ধা পাঞ্জাবি মহিলাকে চিনতেন না। বাড়িতে বাড়িতে ডেকে, কড়া নেড়ে প্রবোধ কুমার জানতে চাইলেন, এখানে অমৃতা প্রীতম থাকেন? অবশেষে সত্যিই পেলেন তিনি বিখ্যাত মহিলা কবিকে। প্রবোধ কুমার নাকি বলেছিলেন, হাজার খানেক বাড়ি বড়োজোর খুঁজতে হত। সেটা এমন বেশি কী!
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন