চণ্ডী লাহিড়ী
আমাদের এই বাংলায় দুঃসময় এলেই লোকনাথবাবার স্মরণ নিই। শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে কয়েক লক্ষ মানুষ তাঁর অনুরাগী। কেউ প্রকাশ্যে, কেউ গোপনে। বিশাল দেশ আমেরিকাতেও তাই। এই কলকাতা মহানগরীর গোপন কোনো নিভৃতিতে, আমরা ক’জন খবর রাখি—চৈতন্যদেবের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত কিছু বৈষ্ণব সাধক এখনও সাধনা করেন। সংবাদপত্রে ছবি ছাপতে দেন না, দান গ্রহণ করেন না। এখনও বহু মানুষ গূহ্যসাধনকে পরিহাসচ্ছলে বলেন, গূহ্যদ্বার সাধন।
আমেরিকার একটি বিশাল অংশ আছে যাঁরা প্রবলের চাপ সত্বেও নিজেদের আদিম ধর্ম বিশ্বাস এখনও বজায় রেখেছেন।

মনের জোরে মানুষ যে অসাধ্য সাধন করতে পারে সেতত্ত্ব গিরীন্দ্রশেখর বসু যখন জার্মানীর (প্রাক হিটলার) ফ্রয়েডকে বলেন তিনি বিশ্বাস করেছিলেন। প্রাচীন আজটেক সভ্যতাতেও, মনের জোরে এবং এযাবৎকাল অজ্ঞাত কিছু কলাকৌশল আয়ত্ব করতে পারলে যে প্রবল সাহস বাডায় এই তত্বটি সারা দক্ষিণ আমেরিকার লোক বিশ্বাস করে। আন্তরিকভাবেই করে। স্পানিয়ার্ডরা বহু প্রাচীন আজটেক সভ্যতার মন্দির এবং আজটেকদের ধর্মে বিশ্বাসী মহিলাকে বিয়ে করেছিল। এটা কালক্রমে উত্তর আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। আজটেকর ধর্মের গোপন রীতিনীতি বহিরাগতরা ধ্বংস করে। পুথিপত্র পুড়িয়ে ফেলে।
ইংরেজদের শতপ্রচার সত্ত্বেও যেমন বৈষ্ণবদের গোপন সাধনা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারেনি, কিছুটা রয়েই গেছে। জানা গেল— তোমার মহাবিশ্বে হারায়না কিছু। আজটেকদের দীর্ঘ সাধনায় অর্জিত কিন্তু আপাত অবিশ্বাস্য ব্যাপার, মার্কিন নাগরিকরাও বিশ্বাস করে। পোল, চেক, রাশিয়ান, বলকান, গ্রীক জর্জিয়ান (স্ট্যালিনের দেশ), তুর্কি, আরমেনিয়ান বর্তমান আমেরিকার নাগরিক। এদের একটি বড়ো সংখ্যার মানুষ প্রাচীন আজটেক ধর্মের রীতিনীতির সত্যকে বিশ্বাস করে।
বিখ্যাত মেক্সিকান আর্টিস্ট প্রিডা কাহাল-র সিল করা সিন্ধুক থেকে যখন তাঁরা সুস্থ হয়ে ওঠার গোপন কাহিনী (১৭০ পাতা) পাওয়া গেল, দেখা গেল প্রাচীন আজটেক ভাষা পড়তে পারে এমন কোনো পন্ডিত এখন আর নেই। দেশটা আমেরিকা। একজন মাত্র আছেন যিনি আজটেক ভাষার গোপন ক্রিয়াকলাপ, অর্থাৎ যত আঘাত আসুক, মুখোমুখি হবার সাহস যোগায়, সেই সাধনালব্ধ বিষয়টি বোঝে। ভেল্কি নয়। সাধন প্রক্রিয়া।
ডিয়োগা রিভেয়রা মেক্সিকোর খুব বিখ্যাত চিত্রশিল্পী তাঁরই স্ত্রী এই ফ্রিডা কাহালো। দুজনেই খুব ভাল ছবি আঁকতেন। জীবনের শেষ দশ বছর খুব প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে তাঁরা কাটিয়েছেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শনের সঙ্গে এত মিল বড়ো একটা পাওয়া যায় না।
দিনের সব তারাই থাকে রাতের আঁধারের গভীরে—মৃত্যু যে মৃত্যু নয়—তত্ত্ব তো জীবনের অপর পিঠ—রবীন্দ্রনাথের কবি পেয়েছিলেন। একটু গবেষণা হোক না। তাঁকে তো আমরা বিশ্বপথিক বলি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন