চণ্ডী লাহিড়ী
১৮৬৫-১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সময়ে শ্রীমতী মেরি কার্পেন্টার ভারতে আসেন। ইংলণ্ডে থাকার সময় সেদেশে স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারে তিনি মূল্যবান ভূমিকা পালন করেছিলেন। কলকাতায় আসার পর উত্তরপাড়ায় তিনি কয়েকটি মেয়েদের স্কুল স্থাপন করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর সহযোগী ছিলেন বিদ্যাসাগর মশাই। কলকাতা থেকে উত্তরপাড়া যাবার পথে একবার শ্রীমতী কার্পেন্টার বিদ্যাসাগরের সহযোগী হন এবং ঘোড়ার গাড়ি চেপে উত্তরপাড়া যান। বহুবারই তাঁরা একত্রে গেছেন। কিন্তু একবার ঘোড়ার গাড়ি উলটে যায়। পথের মানুষ বিদ্যাসাগর ও কার্পেন্টারকে অনেক কষ্টে উদ্ধার করে। বিদ্যাসাগর প্রাণে বাঁচলেও মানে বাঁচলেন না। কুলোকে রটিয়ে দিল বিদ্যাসাগর ও শ্রীমতী কার্পেন্টারকে আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

হুজুগে বাঙালি অতি সহজেই পূত চরিত্রে কালি ছিটোতে ভালোবাসে। তবে অচিরেই মানুষ মিথ্যা কলঙ্কের চেষ্টা ভুলেও যায়। এসময় ‘ধীরাজ’ নামক এক গ্রাম্য কবি একটি গান বাঁধেন।
অতি লক্ষ্মী বুদ্ধিমতী এক বিবি এসেছে
ষাট বৎসর বয়স তবু বিবাহ না করেছে।
করে তুলেছে তেলোপাড়ি
এবার নাইকো ছাড়াছাড়ি।
মিস কার্পেন্টার সকল স্কুল বেড়িয়ে এসেছে
কি মাদ্রাজ কি বোম্বাই, সবাই দেখেছে।
এখন এসে কলকাতাতে (এবার)
বাঙালিদের যে পেড়েছে।
উত্তরপাড়ায় স্কুলে যেতে
বড়োই রগড় হল পথে, এটকিনসন উড্রো
আর সাগর সঙ্গেতে
নাড়াচাড়া দিল ঘোড়া মোরের মাথাতে
গাড়ি উল্টে পল্লেন সাগর
অনেক পুণ্যে গেছেন বেঁচে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন