চণ্ডী লাহিড়ী
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী রমা দেবী। তাঁরই যোগ্য পুত্র তারাদাস। এঁদের নিয়ে আলোচনায় এখন সবাই মুখর। আমরা ভুলে যাই যে, বিভূতিভূষণ আগেও একটি বিয়ে করেছিলেন। সেই বউকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গেলেন। চারধারে বাঁশবন। আর ডোবা। সূর্যের আলো প্রবেশ করতে ভরসা পায়। মশা আর শেয়াল তাড়িয়ে দরজার শিকল খুলে বউকে নিয়ে ঘরে গেলেন। মাটির ঘর। কিন্তু সুন্দরভাবে গোবরজল দিয়ে পরিপাটি করে নিকোনো। একপাশে একটি কুলুঙ্গি। কুলুঙ্গিতে একটি ভাঙা লোহার কড়াই।
বিভূতিভূষণ নতুন বউ-এর হাতে ভাঙা কড়াইটা (যার সবটাই জং ধরে এখন অব্যবহার্য) তুলে দিয়ে বললেন—আমার মায়ের স্মৃতি। তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি।

নীরদচন্দ্র চৌধুরী যখন বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালি স্ব-উদ্যোগে ছাপেন তখন বিভূতিভূষণের সঙ্গে তাঁর ‘তুই-তোকারি’ সম্পর্ক। নীরদবাবু তখনও যথেষ্ট সাহেব হননি। বিলেতেও যাননি।
একবার লণ্ডন থেকে কলকাতায় রাসবিহারী অ্যাভিনিউতে ক্ষীরোদবাবুর বাড়িতে উঠেছেন, আমি আর বন্ধু কিশলয় ঠাকুর গেলাম সেই বিশ্ববিখ্যাত বেঁটে পন্ডিতটির সঙ্গে দেখা করতে।
—আপনি বিভূতিবাবুকে কেমন দেখেছেন? একটু স্মৃতি যদি...
একটুও চিন্তা না করে ঝটিতি জবাব—মাগি দেখতে ভালোবাসতো। তখন কলকাতায় খুব সুন্দর সুন্দর অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মেয়ে দেখা যেত। একবার ওয়েলিংটন স্কোয়ারে আমি আর সজনী তাকে ডাকছি। খেয়াল নেই। একমনে চোখ দিয়ে মেয়েদের গিলছে। ভয়ানক রোমান্টিক। খাওয়ায় রোমান্টিক, বনে-জঙ্গলে রোমান্টিক, যখন চটি ছেড়ে জুতো ধরল তখনও খুব রোমান্টিক।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন