চণ্ডী লাহিড়ী
ব্রিটিশ রাজারানিদের যখন অভিষেক হয়, তার আবহার্য অঙ্গ হল এক বিশেষ ফর্মুলায় তৈরি এক ধরনের তেল রাজা বা রানিকে মাখতে হয়। সেই আদিকালে হয়তো, জুঁই গোলাপ ল্যাভেণ্ডার ইত্যাদির আতর মাখিয়ে তেলটা রাজোপযোগী করা হতো। দূরদূরান্তের উপনিবেশ থেকেও হয়তো সুগন্ধী বা আতর আসত যা রানিরা আনন্দের সঙ্গে মাখতেন। তারপর টেমস নদীতে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। সেদিনের সেই সুগন্ধী তেল পরবর্তীকালে বিচুয়ালে (Betual) পরিণতি পেয়েছে।
তেলটি কেমন? রানি প্রথম এলিজাবেথ যখন অভিষেকের আগে এই তেলটি মেখেছিলেন তখন নাক সিঁটকে বলেছিলেন—দুর্গন্ধ—মনে হয় নোংরা গ্রিজ মাখছি।

সব রাজারানি সেরকম কটু মন্তব্য করেননি। অনেকেই স্বাধীন মতামত চেপে গেছেন। ১ম চার্লস চেষ্টা করেছিলেন পুরোহিতদের মতামত উপেক্ষা করে তেলটি সুগন্ধী করার। তাঁর চাপে এই রাজকীয় তেলে কস্তুরী চাঁপা গোলাপ এবং আরও কিছু মেশানো শুরু হয়। সেখানে পুরোহিতদের মতকে তিনি উপেক্ষা করেছিলেন। চার্চ চাইত—একবার তেল তৈরি করে অনেকদিনের জন্য রেখে দিতে যাতে পরবর্তী অনেক রাজারানির অভিষেক সেই পুরাতন তেলেই চলে যায়। নতুন তেল বানাবার ঝক্কি নিতে হয় না।
১৯৫৩ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ যখন রাজ্যাভিষেকের জন্য তৈরি হচ্ছেন, তখন দেখা গেল যে তেল তাঁকে মাখানো হবে সেটা তৈরি হয়েছিল রানি ভিক্টোরিয়ার অভিষেকের সময়।
ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ ঘটেছে। যে কোম্পানি তেল বানাতেন সেই প্রতিষ্ঠান উঠে গেল। তেল নেই। যাজকরাও জানেন না। অবশেষে বণ্ড স্ট্রিটের এক কেমিস্ট আসরে নামলেন। তিনি রাজি হলেন রানির জন্য সুগন্ধী তেল তৈরি করে দেবেন। তেলের সুগন্ধ যাতে বোঝা যায় সেজন্য সর্বাগ্রে তিনি ধূমপান ত্যাগ করলেন।
প্রথম চার্লস চার্চের কথা না শুনে পছন্দমতো সুগন্ধী মিশিয়ে তেল তৈরি করেছিলেন। তাঁর ফাঁসি হয়েছিল। সেকালের মানুষেরা বলাবলি করত, চার্চকে অমান্য করার ফল রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ একই কাজ করেছেন। তিনি দীর্ঘজীবী হয়ে এখনও (২০১৩) বেঁচে আছেন। বিজ্ঞানবোধে উজ্জীবিত মানুষ এখন ধর্মান্ধ নয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন