চণ্ডী লাহিড়ী
যাঁরা কলকাতার ঘটি, তাদের মধ্যে একটা ঠাট্টা প্রচলিত ছিল—‘বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানো।’ কীভাবে রসিকতাটি চালু হল তা নিয়ে একটি গল্প বলেছিলেন ব্রজদা। সেই ব্রজরঞ্জন রায় যিনি দীর্ঘদিন আনন্দবাজারে খেলাধূলা বিভাগের প্রধান ছিলেন। বহুবার কারাদন্ডভোগী এই আদ্যোপান্ত স্বদেশি মানুষটি ক্রিকেটকে বিদেশি খেলা বলে গণ্য করতেন। তিনি এমন অনেক গল্প বলতেন যা সেই সময় মুদ্রণযোগ্য ছিল না অথচ একেবারে ‘অবিশ্বাসযোগ্য’ বলেও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

১৯১১-তে মোহনবাগান শিল্ড জয় করার পর বাঙালিদের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে উন্মাদনা বেড়ে যায়। নাটোরের মহারাজাও নিজ রাজ্যে একটি ফুটবল টিম গড়ে তোলেন। কলকাতা থেকে তিনি ভালো খেলোয়াড় নিয়ে সেখানকার গ্রামীণ ছেলেদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্ধর্ষ টিম গঠন করেন। একবার সেই টিম কলকাতায় এল খেলতে। তারা খেলবে সাহেবদের টিমের সঙ্গে। সাহেবদের ভয় ছিল হেরে যাবার।
আগের দিন নাটোর-টিম কলকাতা শহরটা কেমন দেখতে বের হল। চিড়িয়াখানা জাদুঘর দেখার পর তাদেরকে হাইকোর্ট গাইড বলল—এই যে হাইকোর্ট দেখছ, এখানে লালমুখ সাহেবরা বসেন এবং যাকে খুশি ফাঁসি দিতে পারেন। এমনকি, তোমাদের মহারাজাকেও ধরে জেলে পুরতে পারেন। আর কাল তোমরা যখন খেলবে তখন হাইকোর্টের জানলা দিয়ে সাহেব বিচারপতিরা সব দেখবেন।
পরদিন মাঠে যখন খেলা হল তখন নাটোরের গোলকিপারের পা ঠকঠক করে কাঁপছে। যদি সাহেবরা গোল খায়...নির্ঘাৎ ফাঁসি। খেলোয়াড়রা কেউ সাহেবদের দিকে এগোনো দূরের কথা, চোখ মেলে তাকাতেও ভরসা পাচ্ছেন না। নাটোরের দল প্রচুল গোল খেল। খেলে নয়, ভয় পেয়ে। সেই থেকে নাকি কলকাতায় সাহেব-প্রেমিক মহলে চলে হয়ে গেল, ‘বাঙালকে হাইকোর্ট দেখানো’ শ্লেষবাক্যটি!
এটি নিছক গল্প। সত্যমিথ্যার দায় আমার (চ.লা.) নয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন