চণ্ডী লাহিড়ী
ইউকিও মিশিমা (Yukio Misima) ছিলেন জাপানের বিখ্যাত কবি, অসাধারণ হাইকু লিখতেন। সারা জাপানের তিনি নয়নমণি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে জাপান কেবল যে যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল এমন নয়। জাপানিদের নৈতিক অধঃপতনও ঘটিয়েছিল মার্কিন সেনারা। জাপানি মেয়েরা আত্মসম্মান খুইয়ে সামান্য ডলারের লোভে পাইকারিভাবে দেহব্যবসায়ে নেমে পড়ে। জাপানি সংগীতের মহান ঐতিহ্য ভুলে জাপানি তরুণেরা রক-এন-রোলের সস্তা চটকদারির মোহে পড়ে দিগভ্রান্ত হয়। একসময় টোকিও শহরেই অন্তত এক হাজার কল-গার্ল বিভিন্ন হোটেলে গণিকাবৃত্তি করত।

মিশিমা দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। জাপান সারস্বত সাধনার ক্ষেত্রে গৌরবময় দেশ। জাপানি ঐতিহ্যকে লোকসমক্ষে হেয় করার মার্কিনি চক্রান্তের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়ালেন। কিছু যুবককে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করলেন। ১৯৭০ সালে টোকিও শহরে ডাকলেন এক জনসভা। দেশের বিভিন্ন সাহিত্যিক, শিল্পী ও কবিদের ডাক দিলেন। তখনকার যুবসম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় অনেককেই ডাকলেন। সেই উঁচু মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁরা ভাষণ দিলেন। বোঝালেন অনেক পাপ জমেছে। অপমানের শোধ নিতেই হবে, যুদ্ধে হেরেছি বলে সম্মানও বিসর্জন দিতে হবে! কখনও না।
উপস্থিত শ্রোতাদের কেউ মিশিমার কথায় কর্ণপাত করল না। একটু থেমে মিশিমা আবার আবেগমিশ্রিত ভাষণ দিলেন। তারপর সবার সামনে ছুরি দিয়ে নিজ হাতে নিজ পেট চিরে সবার সামনে হারিকিরি করলেন। পাশে অপেক্ষমাণ এক অনুচর মিশিমার পূর্ব-নির্দেশমতো তলোয়ার দিয়ে সর্বসমক্ষে তাঁর মুন্ডচ্ছেদ করলেন। এটাই জাপানের সনাতন ঐতিহ্য। যিনি মিশিমার মুন্ডচ্ছেদ করেছিলেন, আরেক দেশপ্রেমিক এবার জাপানি-রীতি মেনে তাঁরও মুন্ডচ্ছেদ ঘটালেন। এই ডবল হারিকিরির খবর দেখতে দেখতে সারা জাপানে ছড়িয়ে পড়ল। তরুণ-তরুণীরা এবার এগিয়ে এলেন পুরাতন জাপানি-ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন