চণ্ডী লাহিড়ী
আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় যে আপনকে ভালোবাসেন বা আপনার কাজ খুব পছন্দ করেছেন এটা বুঝবেন কী করে?
যদি তিনি সত্যিই আপনার কাজ দেখে মৌলিকতা দেখে অন্তরের গভীরে উল্লসিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার কপালে একটু দুঃখ আছে। কারণ আচার্য রায়ের বদভ্যাস হল, পছন্দ হলে তার পিঠে প্রচন্ড জোরে ঘুসি মারা। শরীরে তো নরম মাংস নেই। সবটাই হাড়। ঘুসির দৈহিক আঘাতটা আসলে প্রেমের আঘাত। পিঠে চাপড় মারতেন। কিন্তু কত জোরে মারা উচিত সেই বোধটাই ছিল না। আমি পাঁচ-ছজন কৃতী মানুষকে জানি, যাঁরা ঘুষি খেয়েছেন এবং ব্যথা নি:শব্দে হজম করেছেন। মজার ব্যাপার, তাঁর বাপ-ঠাকুর্দা ছিলেন ধনী জমিদার। বিলেত গিয়েছিলেন ভিক্ষা করে নয়। বাড়ির পয়সায়। তাঁর বাপ-জ্যাঠা সবারই ছিল তাগড়াই চেহারা। প্রফুল্লচন্দ্রও নাকি প্রথম যৌবনে হৃষ্টপুষ্ট ছিলেন।

ল্যাবে কাজ করার সময় নিজের দেহের প্রতি আদৌ নজর দিতেন না। দিনের খাবার রাতে খেতেন। ধীরে ধীরে ডিসপেপসিয়া তাঁকে গ্রাস করে। কিন্তু কোনোদিনই খিটখিটে স্বভাবের ছিলেন না।
খুলনার রাড়ুলি গ্রামের রায় পরিবারের একটি মেয়ে আমার (চ-লা) কাছে আসে। পরিবারের কোনো মেয়ে বা ছেলে উচ্চতর পড়াশোনার জন্য বিলেত যেতে চাইলে যাতে টাকা পায় এমন একটি ট্রাস্ট তিনি করে যান। মেয়েটি আচার্য রায়ের নিকট সম্পর্কিত নাতনি। রায় পরিবারে একটি মেয়ে একবার আমার কাছে এসেছিলেন, আচার্য রায়ের সহকারী অতি সহজ সরল মানুষ গোপাল ভট্টাচার্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে আরও জানতে। প্রচুর তথ্য পেয়েছিলাম রায় পরিবার সম্পর্কে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন