চণ্ডী লাহিড়ী
সেদিনও সত্যজিৎ রায় চিদানন্দ দাশগুপ্ত এবং হরিসাধন দাশগুপ্তর নাম একসঙ্গে উচ্চারণ করা হত। হরিসাধনের বড়ো ভাই কালীসাধন ছাড়া এক ছোটো ভাই ছিল, ডাক নাম বুলু। সাদার্ন অ্যাভেনিউতে তাঁদের বিশাল প্রাসাদ। হরিদা বিদেশ থেকে সিনেমা নির্মাণ বিদ্যাটি তাঁর নিজস্ব প্রতিভায় দীপ্ত করে শিখে এসে স্নেহের ভাই বুলুকে শেখাতেন। বুলুর তখন সদ্য যৌবন, স্বভাবে খুব চঞ্চল। আমার সঙ্গে একবার দিন সাতেকের জন্য বন্ধুত্ব হয়েছিল।
বুলু ঠিক করেছিল, আকাশের মেঘপুঞ্জ দীর্ণ করে কীভাবে বজ্রপাত হয়, সেটা সিনে ক্যামেরায় তুলবে। খুবই বড়োই দুঃসাহসের কাজ। ফাঁকা মাঠে ঝড়ের সময় দাঁড়ালে যে মাথায় বজ্রপাত হতে পারে সেজ্ঞান তার ছিল না। বুলুর জিদ, সেক্যামেরায় ছবি তুলে দেখিয়ে দেবে। পথিকৃৎ হবে।
সেসময় একটি ছোটো খবরের কাগজে রাত্রে কাজ করছি। খবর এল—বুলু বজ্রপাতে মারা গেছে, হাতে সিনে-ক্যামেরাটি বজ্রমুষ্টিতে ধরা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই দুঃসাহস একটি রেকর্ড। বড়ো বেদনার মতো বেজেছিল এই ভ্রাতৃবিয়োগ হরিদার বুকে।
হরিসাধনের বড়ো ভাই কালীসাধন, তারপরই বুলু। সাদার্ন অ্যাভেনিউর প্রবেশমুখেই সেই বিশাল প্রাসাদোপম বাড়ি সত্যজিৎ চিদানন্দবাবুরা দেখলেও একালের শৌখিন সিনে ইনটেলেকচুয়ালরা দেখেন নি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন