চণ্ডী লাহিড়ী
হাসির গানের অনুষ্ঠান একসময় অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর খুব জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল। গান গাইতেন নলিনীকান্ত সরকার। এক মজার কাহিনি তিনি উল্লেখ করেছেন আত্মজীবনীতে।
একবার হাসির গানের অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথের এক বিখ্যাত গানের প্যারোডি তিনি গাইলেন।
ভেড়ার গোয়ালে আগুন লেগেছে
বহে পশ্চিম হাওয়া,
শুনি নাই কভু শুনি নাই
এমন বিকট গাওয়া।
কোন রজকের ঘর থেকে আসে
কোন রাসভের গান
ঝালাপালা হল কান।
যেদিন নলিনীকান্ত এই গানটি করেন তার দুদিন আগে এক বিখ্যাত ওস্তাদ রেডিয়োতেই একটি কালোয়াতি গান পরিবেশন করেছিলেন। নলিনীকান্ত তাঁর গান শোনেননি। সরল বিশ্বাসে যেমন প্যারোডি গাইতে হয় সেভাবেই লিখেছেন এবং গেয়েছেন।
এদিকে ওই ওস্তাদের ধারণা তাঁকে ব্যঙ্গ করেই গানটি নলিনীকান্ত গেয়েছেন। চিঠি দিলেন ওস্তাদ— তাঁকে অপমান করা হয়েছে। বেতার তো সরকারি প্রতিষ্ঠান। নলিনীকান্তের চাকরি যায় যায় অবস্থা।
অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল আমার (চ.লা.) ক্ষেত্রেও। চীন যুদ্ধের সময় আনন্দবাজারে কার্টুন করি। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী সিরিমাভো বন্দরনায়েক একটি দোলনায় বসা চীনের প্রধানমন্ত্রীকে দোলাচ্ছেন। দু-জনেই খুব হাসিখুশি। ক্যাপসন...সেদিন দুজনে, দুলেছিনু বনে...। কমিউনিস্টরা ছিল চিনপন্থী। তাঁদের নেতা ভূপেশ গুপ্ত লোকসভায় প্রশ্ন তুললেন,—সিরিমাভো ও চু-এন-লাইকে প্রেমিক প্রেমিকা রূপে দেখিয়ে তাদের অপমান করা হয়েছে। অশ্লীল! ভূপেশ গুপ্ত অভিযোগ করলে প্রধানমন্ত্রী নেহরু খুব গুরুত্ব দিতেন।
আনন্দবাজারের দিল্লি অফিসের কর্মকর্তা অশ্বিনী গুপ্ত ও জহরলাল দীর্ঘদিনের বন্ধু, আগস্ট আন্দোলনে একই জেলে ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী জহরলাল অভিযোগ পেয়েই অশ্বিনীকে ডেকে বললেন, তোমাদের কাগজ তো ভদ্রলোকের কাগজ, সেখানে এই অশ্লীলতা কেন?
অশ্বিনীবাবু আমাকে ফোনে বললেন, চুপ করে বসে থাকতে। কোনো মতামত না দিতে। পত্রিকা সম্পাদক অশোক কুমার সরকারও আমায় ভরসা দিলেন, কোনো ভয় নেই।
অশ্বিনীবাবু কার্টুনের ক্যাপসনটি প্রধানমন্ত্রীকে শোনালেন। তারপর বললেন—লাইনটি রবীন্দ্রনাথের। Do you think, Tagore wrote anything silly?
জহরলালের জবাব—thanks, my faith remains unchanged.
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন