চণ্ডী লাহিড়ী
কমিউনিস্ট শাসিত সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তাঁর প্রবল প্রতাপান্বিত শাসক স্তালিনের নামে বহু-মুখরোচক গল্প মার্কিন-মহল থেকে প্রচার করা হত। এসব নিছক প্রচারের মতলবেই রচনা করা হত, প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে মিল খোঁজার চেষ্টা বৃথা। এরকম একটি মজার গল্পের উল্লেখ করি।
স্তালিনের আমলে রুশ সরকারি আমলারা স্থির করলেন, তুর্গেনিভের একটি মূর্তি স্থাপন করবেন। কমিটির সভায় একজন বললেন, মহান স্তালিনের রচিত কোনো বই তুর্গেনিভ পড়ছেন এরকম একটা মূর্তি বসানো যেতে পারে। সভায় অন্য একজন প্রতিবাদ করলেন। তুর্গেনিভ স্তালিন জমানার বহুআগেই তো মারা গেছেন। স্তালিনের বইপড়া দূরের কথা স্তালিনের নামও তাঁর জানার কথা নয়।

নতুন প্রস্তাব এল, স্তালিন বসে তুর্গেনিভের কোনো বই পড়ছেন এমন ভঙ্গিতে মূর্তি নির্মাণ করলে কেমন হয়?
সমস্যা হল, স্তালিনের আদৌ কোনো পুস্তকপ্রেম ছিল না। বইপড়ার কোনো নেশা ছিল এমন তথ্য কোথাও নেই। সবাই জানে স্তালিনের সাহিত্যপ্রীতি ছিল না। নিজেও কিছু লেখেননি। তাহলে? অনেকবার সভার অধিবেশন হল।
সদস্যরা কিছুতেই কোনো ব্যাপারে একমত হতে পারলেন না। এদিকে কাজটা অবিলম্বে শেষ করা দরকার। শেষপর্যন্ত একটি মূর্তি সত্যিই নির্মিত হল—স্তালিন নিজের লেখা বই নিজেই পড়ছেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন