চণ্ডী লাহিড়ী
সেই কবে ইব্রাহিম লোদী। দৌলত খাঁ লোদী লোহার কামান দিয়ে তিরন্দাজি ভারতীয়দের হটিয়ে যুদ্ধজয় করেছিল। সেসময়কার ভারতীয় যোদ্ধারা ছিল চালাক। লোহার কামানের গোলা এসে গায়ে পড়লে হাতি, ঘোড়া ভয়ে দৌড় দেবে। অকারণ লোকক্ষয়ে লাভ কী? ভারতীয়রা অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছিল।
এরকম অসম যুদ্ধ আর একবার মাত্র অকারণ বিপুল লোকক্ষয় ঘটিয়েছিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। আবিসিনিয়া কালো সম্রাট হাইলে সেলাসি মুসোলিনির ব্রাউন সার্ট বাহিনীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ইটালির কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না। সম্রাট জানতেন না রাইফেল, কামান কী বস্তু। তাঁর সৈন্যসামন্তের হাতে আছে বর্শা আর তির-ধনুক। সেসব দিয়ে বাঘ, ভালুক মারা যায়। রাইফেলধারীদের খতম করা দুঃস্বপ্নমাত্র। ইব্রাহিম লোদীর সময় ভারতীয়দের ভারতের মাটির প্রতি অন্ধ আনুগত্য ছিল না। কিন্তু আবিসিনিয়ার (অধুনা ইথিওপিয়া) অধিবাসীদের আনুগত্য ছিল অসি। সম্রাট তাদের কাছে স্বয়ং ঈশ্বর।
মেসিনগান আর ট্যাঙ্কের সামনে ইথিওপিয়ার তিরন্দাজি সৈন্যরা অসহায়ভাবে মারা গিয়েছিল। আর সেই প্রায় নিরস্ত্র ইথিপিয়ানদের মৃত্যুতে শ্বেতকায় ইতালীয়দের আনন্দ উচ্ছ্বাস। বোমা ফাটছে, আগুনের গোলা যেন একটা ফুল। বেনিটো মুসোলিনির ছেলে ভিট্টোরিও নিজে এই অভিযান পরিচলনা করেছিলেন তার ডায়েরিতে বোমাবর্ষণের আনন্দ এভাবে বর্ণিত:
A little group of Ethiopean cavalry was blooming like a rose when my fragmentation bombs fell in their midst. It was great fun and you could hit them easily. এই অসম যুদ্ধে আটহাজার ইথিওপিয়ানের মৃত্যু হয়।
কিন্তু যত সহজে জয়লাভ ঘটবে ভেবেছিল, তত সহজে জয়লাভ হয়নি। দেশপ্রেমিক আবিসিনিয়ানদের হারাতে ইটালিয়ানরা আকাশ থেকে ব্যাপক বোমাবর্ষণ, বিষবাষ্প (Poison Gas) প্রয়োগ করে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন