চণ্ডী লাহিড়ী
এখন শিশু সাহিত্যে বিশ্বজোড়া নাম হ্যারি পটারের। টিভি পূর্ব যুগে এইরকম খ্যাতি জুটেছিল রিয়েট্রিসের বই The Bunny Books. বিয়াত্রিস (Beatrix) মাত্র ১০ পাউণ্ড দিয়ে একটি বেলজিয়ান খরগোশ কিনেছিলেন। খরগোশটির নাম পিটার পাইপার (Peter Piper)।

বিয়েট্রিস ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন। খরগোশটির নানা ভঙ্গির অসংখ্য ছবি তিনি আঁকেন। ১৮৯৩-এর ৪ সেপ্টেম্বর নোয়েল মুর (Noel Moore) নামক এক অসুস্থ শিশুকে চাঙ্গা করবার জন্য একটি চিঠি লেখেন। তাতে বিয়েত্রিশ বলেন, ‘তোমায় চারটে খরগোশের গল্প শোনাব। খরগোশদের নামগুলি খুব মজার—ফ্লপি, মপসি কটনটেল আর পিটার (Floppy, Mopsy, Cottontail, Peter)।’ অসুস্থ শিশুটিকে লেখা বিয়েত্রিশের এই চিঠি সাত বছর পর প্রকাশিত হয় বই আকারে। তাতে খরগোশ পিটার তার পুত্রকন্যাদের নিয়ে গাজর খাচ্ছে, লেটুস খাচ্ছে। আবার বাগানে চড়তে গিয়ে দাড়িয়াল বুড়ো ম্যাক গ্রেগরের তাড়া খেয়ে গর্তে লুকোচ্ছে এরকম অসংখ্য ছবিতে পরিপূর্ণ সেইসব চিঠি। বিশ্বে এত জনপ্রিয়তা তখন পর্যন্ত আর কোনো পত্ররচয়িতা পায়নি।
সাত বছর পর বিয়েত্রিশ বাচ্চাটির কাছ থেকে চিঠিগুলি চেয়ে নেন। এবার চিঠিগুলির আকার একটু বড়ো করে তিনি বই আকারে ছাপেন। হাজার হাজার কপি বই বাজারে, দোকানে, বাড়িতে হাতে হাতে ঘুরতে লাগল। দাড়িওয়ালা বুড়ো তো সব বাগানেই সবজির চাষ করে। সব দাড়িওয়ালা বুড়োই প্রতিবাদ জানাল—না, আমার বাগানো কোনো খরগোশ তাড়া খায়নি। কাউকে আমরা মারিনি। সেইসব চিঠি কাগজে ছাপা হল। তাতে বই-এর কাটতি গেল আরও বেড়ে। তুলোর তৈরি গোল খরগোশের নাম হল (Bunny)। পরবর্তীতে বিয়েত্রিশ আরও ২৫টি গল্প লেখেন। এই গল্পের বিখ্যাত চরিত্র হল মিসেস টিগি উইংকল (Mrs Tiggy Winkle) নামধারী এক শজারু, শ্যামি নামক এক ধোপানী (ভালো নাম স্যামুয়েল হুইসকার্ম)। দুটি দুষ্টু ইঁদুরের কথাও আছে। তাদের নাম টম থাম্ব আর হাংকা পাংখা।
বিয়েত্রিশ ইংলণ্ডে জন্মেছিলেন ১৮৬৬ সালে। স্বাস্থ্য ছিল খুব দুর্বল। সেজন্য ডাক্তাররা বলেছিলেন, কোনোরকম জীবজন্তুর সংস্রবে যেন না যায়। তাতে রোগ ধরবে। বাবা রুপার্ট ছিলেন ব্যারিস্টার। মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ছবির প্রদর্শনীতে যেতেন। উৎসাহ দিতেন চিত্রকর হতে। ১৯১৩ সালে বিয়েত্রিশ বিয়ে করেন উইলিয়ম হেলিসকে। ১৯৪৩ সালের ২২ ডিসেম্বর যখন তিনি মারা যান তখন ইংলণ্ডের লেক ডিসট্রিকটে ১৬০০ হেক্টর জমি কিনে একটি ট্রাস্টি বোর্ডকে দান করেন। বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। বিয়েত্রিশের মৃত্যুতে তাঁর স্বামী একেবারে আহার নিদ্রা ত্যাগ করেন। এক বছরের মাথায় তিনিও মারা যান।
আজও ইউরোপে শিশুরা খরগোশকে বানি (Bunny) বলে ডাকে। গোলগাল তুলোর খরগোশের নাম Bunny—পুতুল হিসেবে শিশুদের খুব প্রিয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন