চণ্ডী লাহিড়ী
বেঁচে থাকা মানে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু থাকা। শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হলেই মৃত্যু। বিষয়টি প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু যে বিশেষ ধরনের বায়ুর জন্য শ্বাসপ্রশ্বাস চালু থাকে তার সম্পর্কে সচরাচর আমরা সচেতন থাকি না।
অক্সিজেনের বদলে যদি কেবল কার্বন ডাইঅক্সাইড আমরা নিতাম, তাহলে কী আদৌ এক মিনিট বাঁচতাম। অক্সিজেন নামক বায়ুটির কথা কজন মনে রেখেছি!
বিজ্ঞানী জোসেফ প্রিস্টলি সর্বপ্রথম গবেষণার মারফত আমাদের জানিয়ে দেন যে, অক্সিজেন আছে বলেই আমরা বেঁচে আছি। প্রিস্টলি ছিলেন স্বভাবে গম্ভীর এবং সামান্য বদরাগী। লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা ছিল কম। বিজ্ঞানী হতে চাননি। একটি ছোটো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্ব পড়তেন। সেখানেই তাঁর এক সহকর্মী (বিজ্ঞানের অধ্যাপক) প্রিস্টলিকে বিজ্ঞানের দিকে আকৃষ্ট করেন। ব্রিটেনকে তাড়িয়ে আমেরিকা যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করল, প্রিস্টলি তাতে খুব উৎসাহিত বোধ করেন। কিন্তু সেই বার্মিংহামেই প্রিস্টলি অনেক সময় ও অর্থব্যয় করে বানিয়েছিলেন নিজস্ব ল্যাব। সেই বহু সাধনায় সৃষ্ট ল্যাবটি বার্মিংহামের সাম্রাজ্যলোভী মানুষেরা ভেঙে দেয়। প্রিস্টলি মনের দুঃখ মনের মধ্যে চেপে চলে আসেন আমেরিকায় এবং ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে ল্যাব বানাতে শুরু করেন। এখানেই তিনি প্রমাণ করেন, আবহমানকাল অক্সিজেন আছে বলেই প্রাণীজগৎ বেঁচে আছে। অক্সিজেন আছে বলেই আগুন জ্বলে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন