চণ্ডী লাহিড়ী
‘‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’’ নামে খ্যাত গৌরী সেন ছিলেন এই বৈষ্ণবচরণ শেঠের ব্যবসার অংশীদার। দুই বন্ধু একত্রে জাহাজী কারবারে লিপ্ত হন। দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। গৌরী সেন থাকতেন ৩৫ নম্বর কলুটোলা স্ট্রিটে। একবার জাহাজ থেকে প্রচুর দস্তা কেনেন। জাহাজটি ডুবে গিয়েছিল। জাহাজ উদ্ধারের পর নষ্ট হয়ে যাওয়া দ্রব্যাদি নিলামে তোলা হত। এটা সেকালের এক প্রধান ব্যবসা। রামদুলাল সরকারও ডুবো জাহাজের মাল কিনে বড়লোক হন। যাই হোক, জাহাজের মাল দস্তা কেনার পর দেখা গেল। সেগুলি রূপো। রূপোর মধ্যে দস্তা ভেজাল ছিল। গৌরী সেনের নামে কেনা বস্তু। ইচ্ছা করলেই বৈষ্ণবচরণ সব দস্তা নিজেই আত্মসাৎ করতে পারত। কিন্তু সেই অন্যায় কর্মে লিপ্ত না হয়ে তিনি সব দস্তা (অর্থাৎ সবই রূপো) গৌরী সেনের হাতে তুলে দিলেন। গৌরী সেন এইসব দান ঈশ্বরের কৃপা বলে গ্রহণ করলেন। সবাই জানেন গৌরী সেনের দানের হাত খুব দরাজ ছিল। ঋণের দায়ে যাদের কারাদন্ড হত, তাদের মুক্ত করার জন্য গৌরী সেন বিখ্যাত ছিলেন। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতাদের জন্য তাঁর দরজা ছিল অবারিত। এজন্য ‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন’ প্রবাদটির জন্ম হয়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন