চণ্ডী লাহিড়ী

রাখালদাস আবিস্কৃত মহেঞ্জদরো থেকে
ঐতিহাসিক ডা. রমেশচন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে রাখালদাসের খুবই বন্ধুত্ব ছিল। রমেশচন্দ্র সুদীর্ঘকাল তাঁকে সুখে-দুঃখে দেখেছেন। রমেশচন্দ্রের বর্ণনা— ‘রাখালবাবু খুব আয়েশি লোক। নিজের হাতে প্রায় কিছুই করিতেন না। চাকরে জামাকাপড় পরাইয়া দিত। জুতার ফিতা বাঁধিয়া দিত। খাওয়ার পরে আরেকজন হাতে জল ঢালিয়া না দিলে তিনি মুখ ধুইতে পারিতেন না। লেখার বেলাতেও তাই। অফিস হইতে ফিরিবার সময় টাইপিস্ট ভূদেববাবুকে সঙ্গে লইয়া বাড়ি আসিতেন। জলযোগান্তে এক আরামকেদারায় শুইয়া তিনি তামাক টানিতেন। সঙ্গে সঙ্গে মুখে বলিয়া যাইতেন আর ভূদেববাবু লিখিয়া যাইতেন। কঠিন শব্দ হইতে রাখালদাস বানান করিয়া বলিয়া দিতেন। তাঁহার ইতিহাস উপন্যাস সবই যে এইভাবে লেখা রাখালবাবু নিজেই সেকথা আমায় বলেন। পরে দুই-একবার এই দৃশ্য নিজেও দেখিয়াছি। এ ধরনের লেখায় দু-একটি ভুলচুক থাকিবে তাহাতে আশ্চর্যবোধ করিবার কিছু নাই। এই লেখা দেখিয়া সংশোধন করিবার লোকও তখন বিশেষ ছিল না। সুতরাং এই সংশোধন ব্যাপারের মধ্য দিয়াই আমার সঙ্গে রাখালবাবুর ঘনিষ্ঠতা স্থাপিত হইল।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন