চণ্ডী লাহিড়ী
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আমৃত্যু একটি মিথ্যা কলঙ্কের বোঝা বয়ে বেড়িয়েছেন। ভাষাতত্ত্ববিদ হরিনাথ দের অকালমৃত্যুর জন্য তিনিই নাকি দায়ী। হরিনাথ একাধারে ভাষাতত্ত্ব ও বহুভাষাবিদ ছিলেন। তাঁর পান্ডিত্য নিয়ে কারও মনে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ যে-দোষের জন্য তিনি বারবার নিন্দিত ও চাকুরিচ্যুত হয়েছিলেন সেটার কথা অতিভক্তির কারণে কেউ আর উচ্চারণ করেনি।
হরিনাথ দে অত্যধিক মদ্যপান করতেন। পবিত্র শিক্ষামন্দিরে প্রায় প্রকাশ্যে মদ্যপান করায় একসময় তাঁর চাকরি চলে যায়।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারিকের চাকরি স্যার আশুতোষের উদ্যোগেই তিনি পান। সেখানেও তিনি মদ্যপানে রত থাকতেন। ফলে বহু মূল্যবান বই খোয়া যায়। বারবার নোটিস দেওয়ার পরও যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বই ফেরত এল না তখনই তাঁকে অপসারণ করা হল। স্যার আশুতোষ কোনদিনই তাঁকে ‘বইচুরির’ অপবাদ দেননি। অত্যধিক মদ্যপানের জন্য তাঁর স্বাস্থ্য এমনিতেই ভেঙ্গে যায়। লিভার অকেজো ছিল। চাকুরিচ্যুতিটা তাঁর মৃত্যুর নিমিত্তমাত্র। অথচ বাজারে প্রচলিত ধারণা তাঁর নামে বইচুরির অপবাদ সহ্য করতে না-পেরে হরিনাথ দে অকালে মারা গিয়েছেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন