চণ্ডী লাহিড়ী
বিহারীলাল (সারদামঙ্গলের লেখক ও রবীন্দ্রনাথের বেহাই) চক্রবর্তী প্রথম জীবনে আহিড়ীটোলা অঞ্চলের বিখ্যাত গুন্ডা ছিলেন। মাধুরীলতাকে বিয়ে করেন বিহারীলালের পুত্র শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী। ঠাকুরবাড়ির সংশ্রবে এসেই তাঁর পরিবর্তন ঘটে। গঙ্গার ঘাটে যজনযাজন। পুরোহিতগিরি ছিল পৈতৃক পেশা। (কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য— পুরাতন প্রসঙ্গ)
স্বর্ণকুমারীর স্বামী জানকীনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ও যথেষ্ট বলশালী লোক ছিলেন। পেশায় ঠিক গুণ্ডা না হলেও নিজ পেশিশক্তিকে প্রায়ই কাজে লাগাতেন।
এদেশে স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে মা-গোঁসাইদের অবদান প্রচুর। চিৎপুর এলাকায় বইছাপা যখন শুরু হল তখন শিক্ষিত মেয়েদের সংখ্যা ছিল নগণ্য। সত্যনারায়ণের পাঁচালি বা শ্রীকৃষ্ণের অষ্টোত্তর শতনাম পড়তে হলে তো লেখাপড়া জানা চাই। মা-গোঁসাইরা সহজেই অন্দরমহলে প্রবেশ করতেন বই-এর ঝুড়ি নিয়ে। সত্যনারায়ণের পাঁচালি গান গেয়ে শোনাতেন। এদের কেউ কেউ দুপুর বেলায় গৃহস্থ-বাড়ি প্রবেশ করে মেয়েদের লেখাপড়া শেখানোর কাজ নিলেন। লেখাপড়া শিখলে দ্রুত তারা বই পড়তে চাইবে। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর নিজ বাড়ির মেয়েদের লেখাপড়ায় উৎসাহ দেবার জন্য মা গোঁসাইদের সম্মানের সঙ্গে অন্দরমহলে আমন্ত্রণ করেছিলেন। কোন কোন বৈষ্ণবীর সঙ্গে তাঁর ‘অসৎ সংসর্গ’ নিয়ে বাজারে প্রচুর চটুল গল্পও রটেছিল। কিন্তু প্রিন্স দ্বারকানাথ কোন রটনায় কান দেননি। তিনি বৈষ্ণবীদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁর অন্দরমহলে বাস করতেন মা গোঁসাইরা—আর সেজন্য তাঁকে চারিত্রিক বদনাম সহ্য করতে হয়েছিল। দ্বারকানাথ বিলাসী ছিলেন। কিন্তু পান দোষ বা নারীঘটিত দোষ তাঁর ছিল না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন