চণ্ডী লাহিড়ী
অধ্যাপক রেজাউল করিম খুব গরীবের ঘরে জন্মেছিলেন। গান্ধীজীর আহ্বানে ছাত্রাবস্থাতেই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন অসহযোগ আন্দোলনে। অনেক কষ্টে অর্থসংগ্রহ করে এম. এ. পরীক্ষা দেন।

বহরমপুরের এক মেয়েদের কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। শুরুর দিকে অধ্যাপকদের যাতায়াতের সামান্য খবর ছাড়া বেতন দেওয়া হত না। ১৯৪৮ সালে যখন কলেজ শুরু হয় তখন হাতখরচ বাবদ দেওয়া হত মাত্র ৭৫ টাকা। পরে ধীরে ধীরে কলেজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হল। অধ্যাপকদের বেতনও একটু একটু করে বাড়তে শুরু করল। অন্যান্য অধ্যাপকদের বেতন বাড়লেও দেখা গেল করিম সাহেব সেই হাতখরচ বাবদ ৭৫ টাকাই পাচ্ছেন। তিনিও বলেননি, কলেজ কতৃপক্ষও ব্যাপারটি জানতেন না। অনেকদিন পর এই অসংগতি ধরা পড়ল। কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি যখন ব্যাপারটি জানলেন, তিনি লজ্জায় অধোবদন হলেন।
কিন্তু করিম সাহেবের মুখে শিশুর হাসি। সব মুছে ফেলার ভঙ্গিতে করিম সাহেব বললেন, আরে না না, তাতে কী হয়েছে। আমার তো তেমন কিছু অসুবিধা ছিল না। আমার কতটুকু লাগে বলুন। না না, সেকিছু না। একটা দুটো সময়ে একটু মন খারাপ লাগে না তা নয়। আমার ভাগনাটা যখন এম.এ. পড়ত কলকাতায় গিয়ে, মাঝে মাঝে বই কিনতে চাইত। মোটা মোটা দামি বই তো সেসব কিনে দিতে পারতাম না সেটা। তখন একটু মন খারাপ লাগত ঠিকই, কিন্তু ও তো এখন পাস করে গেছে। আর তো এখন কোনো অসুবিধা নেই।
শঙ্খ ঘোষ, পাক্ষিক বসুমতী, ১৬.১১.৯৩।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন