চণ্ডী লাহিড়ী
সিপাহি বিদ্রোহের শেষে রানি ভিক্টোরিয়া ভারত শাসনের ভার স্বহস্তে নেন। সেই শুরু। মাঙ্গা পারালিয়াচি (Manga Paralyachi) সেই অখ্যাত গ্রাম পঞ্চায়েত তখন থেকে অদ্যাবধি (২০০৬) ওই পরিবারের নেতৃত্বে চলছে। ইংরেজরা চলে গেছে ১৯৪৭ সালে। ভিক্টোরিয়া শাসনভার নিয়েছিলেন ১৯০১ সালে। আজ সেই গ্রাম পঞ্চায়েত চলছে একটি পরিবারের নেতৃত্বে। তামিলনাড়ুর দক্ষিণ আর্কট জেলার এই পঞ্চায়েতের অধীনে গ্রামের সংখ্যা অবশ্য বেশি নয়। গ্রাম পঞ্চায়েতের দায়িত্ব যখন মাঙ্গা নেন সেটা তিনি সর্দার হিসেবে ব্রিটিশ অনুগ্রহে পেয়েছিলেন। তারপর ভারত স্বাধীন হয়েছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চায়েতেও নেতা নির্বাচিত হয় ভোটের জোরে। মাঙ্গার উত্তরাধিকারীরা কিন্তু ভোটেও জনসমর্থন নিয়ে জেতেন। পরিবারতন্ত্র কায়েম হলেও সেই পরিবার খুবই জনপ্রিয়। ১৯৮৬ পর্যন্ত যিনি পঞ্চায়েত-কর্তা ছিলেন তাঁকে বিদায় নিতে হয় কারণ কেন্দ্রটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়ে যায়। যিনি বিদায় নিলেন তাঁরই স্ত্রী রাজলক্ষ্মী আম্মা ভোটের জোরে পঞ্চায়েত নেত্রী ঘোষিত হলেন।
জনপ্রিয়তার মূলে কিন্তু পেশিবল বা অর্থবল নয়। গ্রামে মদ কেনাবেচা বন্ধ। মদ খেয়ে গ্রামে প্রবেশ করা নিষেধ। ফলে মহিলারা নেত্রীকে বিপুল পরিমাণে ভোট দিয়েছেন। স্কুলে যাওয়াও ওই পঞ্চায়েতে বাধ্যতামূলক। পঞ্চায়েত নেত্রী স্বয়ং স্কুলের ব্যবস্থা করে দেন।
রানি ভিক্টোরিয়া থেকে মনমোহন সিং পর্যন্ত অবিচ্ছিন্নভাবে একটিমাত্র পরিবারতন্ত্র নেতৃত্ব দিয়ে আসছে, ভারতে এমন দৃষ্টান্ত আর নেই।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন