চণ্ডী লাহিড়ী
পাথুরেঘাটার ইতিহাসটা জানা আছে? কোম্পানির আমলে উত্তর কলকাতার পতিতারা আবেদন করলেন, শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে বাজারের মধ্যে তাঁদের দেহব্যবসায় চালাতে হয়। এটা তাঁদের ব্যবসার পক্ষে ক্ষতিকর। শহরের বাইরের কোথাও ঘেরাটোপের মধ্যে যদি পতিতাদের বসবাস করার অনুমতি দেওয়া হয়, তাহলে তাঁরা জমিদার বাহাদুরের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন। পতিতা উদ্ধারিণী সভার সভাপতি রাজা নবকৃষ্ণ এই আবেদনে সাড়া দিলেন। কিন্তু আপত্তি উঠল, একশ্রেণীর পন্ডিতদের মধ্যে। পতিতাদের শহরের বাইরে চালান করলে রোগ ছড়াবে সর্বত্র। তারা এখন যেখানে যেভাবে আছে, সেভাবে থাক।
নগরপাল মি. ব্যাপারটা হাতে নিলেন। তাঁর বিধান, পতিতারা পাড়ার মধ্যেই থাকবে। কিন্তু ভদ্রবাড়ি ও পতিতাবাড়ির মধ্যে পার্থক্যটা থাকা খুব জরুরি। সেজন্য পতিতাগৃহের সামনের রাস্তায় থাকবে পাথর। এতে পায়ের ছাপ থাকবে না। অন্য বাড়ির সামনেটা থাকবে কাঁচা। যেখানে পায়ের ছাপ পড়বে।
পাথুরেঘাটার ডাইনে-বাঁয়ে পতিতা রমণীদের অধিক বসবাস থাকায়, সারা রাস্তাটার নাম হয়ে গেল পাথুরেঘাটা।
নগরপাল সেসময় পতিতাদের ঘরভাড়া বাবদ একটা ট্যাক্স ধার্য করেছিলেন। সেই ট্যাক্সের টাকায় নতুন একটি রাস্তা তৈরি হল রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটের ঠিক পাশ দিয়ে। নাম গ্রে স্ট্রিট।
স্মরণ করা যেতে পারে, পৌরাণিক অহল্যা ছিলেন প্রস্তরীভূত। শ্রীরামচন্দ্রের পবিত্র পদস্পর্শে অহল্যার মুক্তি ঘটে। পতিতারা অহল্যার পূজা করেন। পতিতাগৃহের বাইরে পাথর থাকা সুলক্ষণ বলে গণ্য হয়।
দুর্গাপূজা ও অন্যান্য পূজায় বেশ্যাখানার-মৃত্তিকার প্রয়োজন হয়। পাথরে তো মৃত্তিকা মিলবে না; সেজন্য কে পতিতা, কে পতিতা নয়— সেটা মাটি পাওয়া না পাওয়ার ওপর নির্ভর করে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন