চণ্ডী লাহিড়ী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরুর সাদা পাঞ্জাবিতে কলঙ্কের দাগ লাগাতে অনেকেই খুব তৎপরতা দেখিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর দশ বছরের মধ্যে তাঁরই সেক্রেটারি আই.সি.এস. জন মাথাই নেহরুর পরনারী নিয়ে দুর্বলতার বহু গল্প বানিয়ে ছেপে দুপয়সা কামিয়েছিলেন। নেহরু যৌবনের প্রায় শুরুতেই বউ কমলাকে হারিয়েছিলেন। কোনো নারীর উষ্ণতা ভালো লাগলেই সেটা নারীমাংসলোলুপতা বোঝায় না এটা কলঙ্কপ্রিয় সাংবাদিকরা বুঝতে চান না। তাঁরা চান রগবগে স্টোরি যা বাজারে খাবে।

নেহরু-লিয়াকৎ চুক্তির সময় করাচি থেকে লিয়াকৎ আলি সস্ত্রীক দিল্লি এসেছিলেন। ফেরার পথে নেহরু নিজে পালাম বন্দরে যান লিয়াকত ও তাঁর পত্নীকে বিদায় জানাতে। বেগম লিয়াকেত বিমানে আরোহনের সময় যখন সিড়ি দিয়ে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁচেছেন তখন পা থেকে একপাটি চটি নীচে মাটিতে পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী নেহরু সেই চটি হাতে নিয়ে সিড়ি বেয়ে ওপরে যান ও চটি বেগমের কাছে পৌঁছে দেন।
দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে শত্রুদেশের বেগমের চটি নিজের হাতে নিয়ে তাঁর পায়ে পরিয়ে দেওয়া। অন্যায়! এবং নিশ্চয়ই অপরাধ। নেহরু চটিটা হাতে নিয়ে সিড়ি বেয়ে উঠে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বেগমের পায়ে পরিয়ে দেননি। সংবাদ রটল নেহরু বেহায়ার মতো চটি সুন্দরী মহিলার পায়ে পরিয়ে দিয়েছিলেন।
এলাহাবাদ-লক্ষ্ণৌর আভিজাত্যের অন্যতম সহবত হল মহিলাদের সাহায্য করা। নেহরু সেই ভদ্রতার রীতি মেনেছিলেন মাত্র।
নেহরুকে নিয়ে দ্বিতীয় ঘটনাটি সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত ললিত মানসিং-এর একটি স্মৃতিচিত্রে শোভনরূপে প্রকাশিত হয়েছে।
জেকলিন কেনেডি নয়াদিল্লি আসছেন। মার্কিন রাষ্ট্রপতির বউ। নেহরু প্রোটোকল না মেনে নিজেই এয়ারপোর্টে গিয়েছেন সুন্দরী মহিলাটিকে সাদর আহ্বান জানাতে। নেহরু অপেক্ষা করছেন। বেশ কয়েক মিনিট পার হয়ে গেল। ভদ্রমহিলা বিমান থেকে নামছেন না। অপেক্ষমান প্রেস অধৈর্য। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে তো অপমান করা হচ্ছে। অনেক পরে সেজেগুজে সুন্দরী মহিলাটি সিড়ি ভেঙে নামলেন ও নেহরুর হাত থেকে পুষ্পস্তবক গ্রহণ করলেন।
ললিত মানসিংহ জানাচ্ছেন, নেহরুকে দাঁড় করিয়ে রেখে জেকলিন নিজের সাজসজ্জা ও মুখের মেকাপ ঠিক করছিলেন। এতে নেহরুর দোষ কোথায়? সৌন্দর্যপ্রিয় এক প্রধানমন্ত্রী যদি এক সুন্দরীর সান্নিধ্যের জন্য দু-মিনিট অপেক্ষা করেন তার মধ্যে দোষ কোথায়? —এই হল ইন্ডিয়ান প্রেস। কেচ্ছার সুযোগ পেলে আর কিছু চায় না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন