চণ্ডী লাহিড়ী
সাধনার দ্বারা বহু মানুষ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হন। প্রকৃত সাধক এই ক্ষমতা মানবকল্যাণে ব্যবহার করেন এবং নীরব থাকেন। কাজি নজরুল ইসলাম তাঁর ছেলে বুলবুলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁর মনকে শান্ত করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হল। আহারাদি ছাড়লেন। কথা বললেও, সবই বুলবুলকেন্দ্রিক। বন্ধুবর নলিনীকান্ত সরকার তাঁকে নিয়ে গেলেন লালগোলা হাইস্কুলের হেডমাস্টার যোগীবর বরদাচরণ মজুমদারের কাছে।
নলিনীকান্তের বর্ণনা—লালগোলার হেডমাস্টার যোগী বরদাচরণের কাছে গিয়ে নজরুল শান্তিপ্রার্থনার সঙ্গে একবার পুত্রকে দেখতে চাইলেন। ‘কিন্তু মৃত আত্মা কি পূর্বের স্থূল শরীর ধারণ করে আবার ফিরে আসে?’ নজরুলের প্রশ্ন।
সস্নেহে বরদাচরণ বললেন—ছেলেকে দেখতে চাও? বেশ, দেখতে পাবে, কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলেন না।
নজরুল বলছেন নলিনীকান্তকে—কাল রাত্রি আন্দাজ নটার সময় আমি সাধনার জন্য ধ্যানে বসেছি, তাঁর নির্দেশমতো জপ করছি। এমন সময় কার পায়ের শব্দ যেন কানে এল। চেয়ে দেখি ঘরের মধ্যে বুলবুল। সেধীরে ধীরে এগিয়ে এসে তার কচি হাত দিয়ে আলমারিটি খুলল। ওই আলমারিতে সযত্নে রাখা তার পোশাক-পরিচ্ছদ, খেলনাগুলি নেড়েচেড়ে দেখে আলমারি বন্ধ করল। শেষে আমার দিকে চেয়ে মিষ্টি হাসিটুকু আমাকে উপহার দিয়ে বুলবুল আমার ঘর থেকে উড়ে গেল। যোগীরাজ বড়দাচরণ অনেককিছুই অলৌকিক করতে পারতেন যা ভেলকি নয়। কারণ তিনি ছিলেন আর এক যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ির প্রত্যক্ষ শিষ্য। এরা কেউ শিষ্য গড়ার চেষ্টা করেননি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন