চণ্ডী লাহিড়ী
ড. বিধানচন্দ্র রায় তখন পশ্চিমবঙ্গর মুখ্যমন্ত্রী। খাদ্যমন্ত্রী সেসময় প্রফুল্লচন্দ্র সেন। বিরোধী দলের নেতা যতীন চক্রবর্তী খাদ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন—খাদ্যের অভাবে বহু লোক মারা যাচ্ছে, সেদিকে খাদ্যমন্ত্রীর কোনো নজর নেই। এভাবে চললে দেশটি অচিরে শ্মশান হয়ে যাবে।

খাদ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেন প্রতিবাদ করলেন—অভিযোগ ঠিক নয়। খাদ্যাভাবে কেউ এরাজ্যে মারা যায়নি।
যতীন চক্রবর্তী তিনটি মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করলেন নদীয়া জেলা থেকে।
প্রফুল্ল সেন বললেন—খাদ্যের অভাবে এরা কেউ মারা যায়নি। মারা গেছে হার্টফেল করে। পরদিন আবার অভিযোগ। বর্ধমানে খাদ্যের অভাবে মারা গেছে দুজন। প্রফুল্ল সেন বিধানসভায় বললেন, অন্নাভাবে মারা যায়নি। মারা গেছে, হার্টফেল করে। প্রত্যেক দিন বিধানসভায় অন্নাভাবে মৃত্যুর কথা ওঠে, খাদ্যমন্ত্রী সেটা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন। তাঁর মতে হার্টফেল করে মারা গেছে। খাদ্যের অভাবে নয়।
মুখ্যমন্ত্রী ড. রায় একদিন থাকতে না পেরে প্রকাশ্যে খাদ্যমন্ত্রীকে বললেন—এমন মৃত্যু আছে নাকি যেখানে হার্টফেল করলেও বেঁচে থাকে!
আমিতো ডাক্তার হিসেবে জানি, হার্টফেল করলে তাকেই মৃত্যু বলে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন