চণ্ডী লাহিড়ী
১৭৮০তে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ওয়ারেন হেস্টিংসের বিচার শুরু করল। ওয়ারেন হেস্টিংসের বিরোধী পক্ষ প্রধানত ব্রিটেনের অভিজাতরা ঘুঁটেকুড়োনির ছেলেরা ভারত থেকে যখন ফিরছে, বিপুল অর্থ নিয়ে ফিরছে। ব্রিটেনের যাঁরা প্রকৃত ধনী ও অভিজাত তাঁরা নবাগত নবাবদের পয়সার দেমাক দেখে স্তম্ভিত।

ওয়ারেন হেস্টিংসের গৃহসজ্জা দেখে তাঁরা স্তম্ভিত। যাঁরা তাঁর বিচারে এগিয়ে এলেন তাঁরাও কেবল বংশমর্যাদায় অভিজাত, অর্থের আভিজাত্য তাঁদের ছিল না। ধন-সম্পদের মালিক হবার জন্য অযোধ্যার বেগমের ওপর যে অকথ্য নির্যাতন চালানো হয় সেটাও সেদেশে যথেষ্ট প্রচার পায়। প্রধান উদ্যোগী এডমণ্ড বার্ক (Edmund Burke) নিজেই ছিলেন সেই অভিজাত, যাঁর অর্থভাগ্য তেমন ভাল ছিল না। স্যার ফিলিপ ফ্রান্সিসও তাই।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণ করাও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পক্ষে জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছিল। ঘুষ, উপঢৌকন, স্বজনপোষণ ইত্যাদি এত বেশি পরিমাণে দেখা দিয়েছিল যে, বিশ্ব বাজারেও, এই কোম্পানির ক্ষমতা ছাঁটাই না করলে খুবই নিন্দা হত। ব্রিটেনের গর্ব ন্যায়পরায়ণতার, অথচ সবাই জেনে যাচ্ছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মানে দুর্নীতি ও অত্যাচার। পার্লামেন্টের পাশাপাশি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্বিতীয় ক্ষমতার উৎস, যে পদে পদে পার্লামেন্টকে চ্যালেঞ্জ করছে। পনেরো বছর বিচারের পর ১৭৯৫ সালে হেস্টিংস মুক্তি পেলেন। তখন তিনি, নি:স্ব, নিন্দিত ও সমাজে ব্রাত্য। তৃতীয় জজের আমলে বৃহত্তম ঘটনা যদি হয় আমেরিকার স্বাধীনতা অর্জন, দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘটনা অবশ্যই হেস্টিংসের বিচার।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন