চণ্ডী লাহিড়ী

বিখ্যাত বাঙালি শিল্পপতি আলামোহন দাস জন্মেছিলেন এক নগণ্য গ্রামে। খুবই গরিব শিশু আলামোহন কলকাতায় মায়ের তৈরি ভাজা মুড়ি বেচে জীবন শুরু করেন। বাগবাজারের বিখ্যাত সেন পরিবারে তাঁরা আশ্রয় পান এবং সেনবাবুদের শেয়ার বেচাকেনার অফিসে কিশোর আলামোহন যাতায়াত করেন। উত্তরকালে আলামোহন এশিয়া ড্রাগ কোম্পানি, ভারত জুট মিল, দাশ মেশিনারি, গ্রেট ইন্ডিয়ান স্টিম নেভিগেশন কোম্পানি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করেন।
একবার কালাজ্বরে সারা দেশে মহামারী আকার ধারণ করে। সেসময় কালাজ্বরে কোনো চিকিৎসা ছিল না। বিশিষ্ট চিকিৎসক উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী আবিষ্কার করলেন কালাজ্বরের মহৌষধ ইউরিয়া স্টিবামাইন। ওষুধ আবিষ্কার হলেই তো সেটা রোগীর কাছে পৌঁছোয় না। মেশিনে মাপ মতো বড়ি কেটে প্যাকিং দরকার—সেজন্য প্রয়োজনীয় মেশিন আনতে হবে বিদেশ থেকে। সেমেসিন পৌঁছোবার আগেই বহু লোক মারা যাবে।
ডা. ব্রহ্মচারী দ্বারস্থ হলেন আলামোহনের। আলামোহন তাঁর নিজ কারখানায় বাঙালি কারিগরদের দিয়ে ওষুধের বড়ি কাটা ও প্যাকিং-এর মেসিন বানিয়ে দিলেন। ডা. ব্রহ্মচারী তো অবাক। এত কম সময়ে এত উচ্চমানের মেশিন যে ভারতে হতে পারে এটা তিনি ভাবতেই পারেননি।
আনন্দ-বিহ্বল ডা. ব্রহ্মচারী এগিয়ে গিয়ে আলামোহনকে ধন্যবাদ দিলেন এবং তাঁর কর্মক্ষমতার প্রশংসা করলেন।
আলামোহন তখন ডা. ব্রহ্মচারীকে বললেন শ্যামবাজারে আপনার বাড়ির সামনে (এখন হাতিবাগানের অদূরে কলকাতা পুরসভার অফিস) বসে মুড়ি বেচতাম। সামনের স্কুলের (টাউন স্কুল) ছেলেরা কিনত আমায় মুড়ি। আপনার বারান্দায় বসার অপরাধে আপনার নির্দেশে আপনার দারোয়ান আমায় ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়।
ডা. ব্রহ্মচারীর চোখে জল। বুকে জড়িয়ে ধরলেন আলামোহনকে। এই মেসিন ডা. ব্রহ্মচারীর হাতে তুলে দিয়ে তিনি ধন্য হলেন বলে আলামোহনও আনন্দে কেঁদে ফেলেন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন