চণ্ডী লাহিড়ী

বিখ্যাত সাংসদ এবং ব্যারিস্টার নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন এক সময়ের বিখ্যাত কংগ্রেস কর্মী। গান্ধীজির সঙ্গে এই পরিবারের সম্পর্ক ছিল মধুর। তাঁরই ভাই বিমলকুমার চট্টোপাধ্যায়ও গান্ধীজির আহ্বানে কারাবরণ করেছিলেন। বিমলবাবু গান্ধীজি সম্পর্কে যে স্মৃতিচারণ করেছেন, তার কিয়দংশ—
আমাদের প্রতিবেশী খাণ্ডেলওয়াল এসে বাবাকে বললেন যে, মহাত্মা গান্ধী কিছুদিনের জন্য বিশ্রাম নিতে ওঁর বাড়িতে এসে থাকবেন। বাবা তাঁর গো-সেবা ও জন্তু জানোয়ার পোষার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। তাই খাণ্ডেলওয়াল অনুরোধ করলেন, যদি তিনি মহাত্মাজীর জন্য ছাগলের দুধ দেবার ব্যবস্থা করে দেন। বাবা সানন্দে রাজি হলেন। টালিগঞ্জ থেকে দুটি রামছাগল কিনে আনলেন। নির্ধারিত দিনে গান্ধীজি এলেন। খাণ্ডেলওয়ালের কথামতো ছাগলের দুধ নিয়ে গান্ধীজির কাছে গেলাম সেজদা আর আমি। বাড়িতে একটি সুন্দর কাচের গ্লাস ছিল। সেইটির ওপর নীচে চাপা দিয়ে দুধ নিয়ে গেলাম। খাণ্ডেলওয়াল মহাত্মাজির ঘরে নিয়ে গেলেন। মহাত্মাজি ফরাশে বসে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে হাঁটুর ওপর প্যাড রেখে কিছু লিখছিলেন।
জগৎবরেণ্য মানুষটিকে প্রথম দেখে প্রণাম করলাম। উনি লিখেই চলেছেন। কোনো ফাঁকে গেলাসভরা দুধের ওপর নজর দিয়েছেন। জানি না। মুখ না তুলেই সেজদাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘গ্লাসটি কোন দেশের তৈরি?’ সেজদার টনক নড়ে উঠল। দ্বিধাভরে বলল, ‘জাপানের।’ এবার মুখ তুলে ভ্রূ কুঁচকে বললেন হিন্দিতে—‘আপনাদের ঘরে লোটা নেই?’ সেজদা জোড় হাত করে ক্ষমা চেয়ে বলল—‘আমি এ গ্লাস ও দুধ ফেলে নতুন দুধ আনছি।’ ঊর্ধ্বশ্বাসে বাড়ি গিয়ে মাকে বলতে, মা তাঁর পূজার ঘর থেকে বেরিয়ে একটি রুপোর ঘটি বের করে দিলেন। এটি তাঁর ভারতের সকল তীর্থের জল আনার জন্য ছিল। অন্য কাজে ব্যবহার হয়নি। দুধ নিয়ে গেলাম সেই রুপার ঘটিতে।
খাণ্ডেলওয়াল গান্ধীজিকে মায়ের দেওয়া লোটার শুচিতার কথা বলায় তিনি বললেন, ‘মাতাজির বহুৎ মেহেরবানি।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন