চণ্ডী লাহিড়ী
কলকাতার ভবানীপুর চক্রবেড়িয়ার এক তরুণ যুবক রোজই এন্টালির রামকৃষ্ণ প্রার্থনালয়ে যেতেন ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করতে। পায়ে হেঁটে যেতেন কারণ বাসে যাবার পয়সা ছিল না। খুবই গরিব। সেদিন দু-পা হাঁটতেই, আর্ত চিৎকার কানে এল—বাঁচাও, বাঁচাও।

কাছে গিয়ে দেখেন, নর্দমার ঢাকনি খোলা। ভেতর থেকে বালকের আর্ত চিৎকার। তখনকার দিনে শহরের নর্দমায় নেমে ভিতরে গিয়ে সাফাই করতে হত। এই বালকদের বলা হত gully boy. ভিতরে বিষাক্ত গ্যাস। নফর কুন্ডু কোনো ভাবনা চিন্তা না করেই নেমে পড়লেন, ছেলেটিকে বাঁচাতে। কিন্তু উঠতে পারলেন না। বিষাক্ত গ্যাসে নিজেও মারা গেলেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল ১২ মে, ১৯০৭ সালে কলকাতা পুরসভা এই দুর্লভ জীবন উৎসর্গের ঘটনাকে সম্মান জানিয়ে সেই গলিটার নামকরণ করেন নফর কুন্ডু লেন। ঠাকুর রামকৃষ্ণের নামে উদ্বুদ্ধ হয়ে ধনদৌলত দান করেছেন অনেকেই কিন্তু জীবনদানের দৃষ্টান্ত খুব বেশী নেই। নফর কুন্ডুই পথপ্রদর্শক। নফর কুন্ডুর জীবনী একদা স্কুলপাঠ্য ছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন