চণ্ডী লাহিড়ী
সেকালে জমিদারবাড়ি থেকে সদ্য বিবাহিত দম্পতি যখন শ্বশুরবাড়ির দিকে যাত্রা শুরু করত তখন আগে আগে যেত রায়বেশে নৃত্যশিল্পীরা। এদের অনেকেই দক্ষ ডাকাত। নববিবাহিত বধূ শ্বশুরবাড়ি যাবার সময় গায়ে প্রচুর অলংকার থাকত। সেসব যাতে লুন্ঠিত না হয় সেজন্য রাইবেশেরা সামনে নাচতে নাচতে যেত। বলা যায়, ডাকাত দিয়ে ডাকাত মারার ব্যবস্থা। রাই অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণের সখী সেজে তারা নাচ ও গান গাইতো। অভিজ্ঞ চোখ ঠিক ধরে ফেলত কোন মানুষটি ডাকাত। ঢাক, ঢোল, ঝাঁঝর, কাঁসর বাজিয়ে পাইক বরকন্দাজরা হাতে বরশা ও ফরসা নিয়ে গেলেও সবাই তারা ডাকাত নয়। ‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে’ ছড়াটি নিছক ছড়া নয়। নবাবি আমলের শেষ ও ইংরেজ আমলের শুরুতে আইনশৃঙ্খলার যে ভয়াবহ অবনতি হয় তার হাত থেকে বাঁচতে রাইবেশে নাচের সৃষ্টি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন