চণ্ডী লাহিড়ী
বিভিন্ন রত্নের মধ্যে রুবি সবচেয়ে দামি কারণ রুবি সবচেয়ে দুর্লভ। বড়ো মাপের সর্বাঙ্গসুন্দর হিরে হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু বড়ো অথচ নিখুঁত রুবি পাওয়া যাবে না। আরও মজার কথা হল, বিশ্বের বেশির ভাগ রুবি পাওয়া যায় থাইল্যাণ্ডে। যাঁরা রুবি চেনেন ও কেনেন তাঁরা ব্যাঙ্ককে ভিড় করেন। মাত্র ৫২ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে রুবির সন্ধান মেলে। প্রধান কেন্দ্রটির নাম বো রাই (BO-RAI)। শহরটি রহস্যময়। সরকারিভাবে লোকসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ হাজারের মধ্যে। কিন্তু বেসরকারিভাবে কত লোক যে প্রকাশ্যে ও গোপনে এখানে আসে এবং পাহাড়ের জমি ও পাথর খুঁড়ে রুবির সন্ধান চালায় তার কোনো হিসেব নেই। এক টুকরো রুবির জন্য কতজন যে খুন হয়, হয়ে যায় তার নিখোঁজ মেলাতে পুলিশ হিমশিম খায়।
প্রাচীন ভারতের ধারণা ছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে এক টুকরো রুবি দিলে পুনর্জন্মে দাতা রাজা হয়ে জন্মাবে। ব্রহ্মদেশের সবার ধারণা যুদ্ধক্ষেত্রে রুবি ধারণ করে থাকলে শত্রু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। সেজন্য বর্মীরা শরীরের গোপনস্থানে রুবি লুকিয়ে রাখেন। থাইল্যাণ্ড? ভগবান বুদ্ধের দেশের এমন কোনো বুদ্ধমূর্তি নেই যার গায়ে কয়েকটি রুবি নেই।
থাইল্যাণ্ডে বহুদিন ধরেই কোনো শক্ত এবং স্থায়ী শাসনব্যবস্থা নেই। কাম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত থাকায় খেররুজ সৈন্যরা সীমান্তবর্তী খনি অঞ্চলে বহুবার হানা দিয়েছে। বহু মূল্যবান রুবি তারা জোর করে কেড়ে নিয়ে গিয়েছে। তবু বহু মানুষ ছোটো হাত-কোদাল নিয়ে রাতের অন্ধকারে বের হয়ে পড়ে। আন্দাজে পাথুরে জমি কাটে বা খোঁড়ে। অনেকেই বেঘোরে অন্য রুবি সন্ধানীর হাতে মারা যায়। এটি এমন এক অঞ্চল যেখানে কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা।
এখন থাইল্যাণ্ডে বড়ো রুবি খুব কমই পাওয়া যায়। তবু মানুষ ভাবে—কাল পাইনি আজ নিশ্চয়ই পাব। আর সেটা হবে বড়ো রুবি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন