চণ্ডী লাহিড়ী
যাঁরা বাঙ্গালোর বা মহীশূর ভ্রমণে গেছেন তারা বৃন্দাবন গার্ডেন অবশ্যই দেখে থাকবেন। কর্ণাটকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান বিশ্ববিশ্রুত ইঞ্জিনিয়ার স্যার এম. বিশ্বেশ্বরায়া খুব গরিব ঘরের ছেলে নিজ প্রতিভাবলে বিশ্ববিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বেশ্বরায়া হয়েছিলেন। তাঁর নিজ রাজ্যে বহু মানুষ তাঁর প্রতিকৃতি ঘরে রাখেন, ছেলেরা যাতে তাঁর মতো বড় হয়। তিনি নিজে কোনো উপদেশ দিতেন না। জীবনচর্যার মধ্যে দিয়ে প্রতিদিন তিনি আদর্শ স্থাপন করতেন।

যখন তিনি খুবই বিখ্যাত, সেসময় একবার নিজের গ্রামের বাড়িতে এলেন। প্রচুর ধনী হওয়া সত্ত্বেও নিজ বাড়িতে বিশ্রাম নিলেন না। প্রতি বাড়িতে গিয়ে গৃহকর্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন এবং কার কী চাই, কোথায় অসুবিধা হচ্ছে খোঁজ নিতে লাগলেন। এভাবে চলতে চলতে যখন রাত্রি গভীর হল, এক ব্যক্তি তাঁকে তাঁর বাড়িতে থেকে যেতে বললেন। গরিবের বাড়ি, তাঁকে খেতে দিতে খুবই কষ্ট হবে জেনেও তিনি সেই গরিবের বাড়ি রাত্রিবাস করলেন।
তাঁর একটি আচরণ গ্রামবাসীদের নজর কেড়েছিল। বিশ্বেশ্বরায়া যখন রওনা দেবেন তখন গ্রামবাসীদের একজন এগিয়ে এসে প্রশ্ন করলেন—‘আপনি সন্ধ্যার পর যখন আমাদের দুঃখকষ্টের কথা লিখছিলেন, তখন দেখলাম দুরকম মোমবাতি জ্বালাচ্ছিলেন।’
বিশ্বেশ্বরায়া জবাব দিলেন—‘যখন সরকারি কাজ করি তখন সরকারের দেওয়া মোমবাতি জ্বালাই। নিজের কাজ করলে নিজের মোমবাতি জ্বালাই। নিজের কাজের জন্য সরকারি মোমবাতি জ্বালানো তো অন্যায়।’
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন