চণ্ডী লাহিড়ী
স্পেনের মানচিত্রে বাস্ক উপজাতির ঐতিহ্যমন্ডিত নগর গুয়ের্নিকা আর নেই। হিটলারের নাজি বাহিনী এবং স্পেনেরই ডিক্টেটর জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নির্মম আক্রমণে গুয়ের্নিকা চিরতরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু গুয়ের্নিকা বেঁচে আছে একটি অনন্য ছবি হয়ে।
জেনারেল ফ্রাঙ্কোই ডেকে এনেছিলেন হিটলারের নাজি বাহিনীকে। হিটলার ১ মে ১৯৩৭ তারিখে গুয়ের্নিকা গ্রাম আক্রমণ করেন। প্রথমে বিমান থেকে বোমা মেরে পরে ট্যাঙ্ক চালিয়ে নগরটিকে গুঁড়িয়ে ধুলো করে দেন।
১৯৩৬ সালেই পিকাসো জানিয়ে দেন, তিনি নাজি বিরোধী। স্পেনের মাটিতে তিনি রিপাবলিক আর্মিকে সমর্থক করবেন। কোন স্বৈরাচারী শাসনের কাছে মাথা নত করবেন না। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে একটি অতিকায় ছবি (আট মিটার লম্বা ও সাড়ে তিন মিটার চওড়া) আাঁকেন। ছবিতে আক্রমণকারী হিসাবে আঁকা হয়েছে ষাঁড় এবং ঘোড়া এঁকেছেন অসহায় জনতা বোঝাতে।
ছবিটি আঁকা হয়েছে, ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। কিন্তু গুয়ের্নিকা নিজকাল অতিক্রম করে, সর্বকালের নিপীড়িত মানুষের হয়ে কথা বলে চলেছে।
এই বিপুল ধ্বংসকান্ড নাজিদের মুখোস দিল খুলে। ফ্রাঙ্কো, যার আমন্ত্রণে নাজি হিটলার ও ফ্যাসিস্ট মুসোলিনি ধ্বংসকার্য চালিয়েছিলেন, তিনি পড়লেন বিপদে। সারা বিশ্বের নানা দেশ থেকে শিল্পী সাহিত্যিকরা দলে দলে স্পেনে এসে জড়ো হয়ে রিপাবলিকান আর্মিতে নাম লেখালেন। নাজি ও ফ্যাসিবাদীরা মুখরক্ষার জন্য বললেন—আমরা কিছুই করিনি।
বাস্করা ভয়ে পালাবার সময় তাদের নিজেদের শহর নিজেরাই ধ্বংস করেছে।

দেশ-বিদেশের শিল্পী সাহিত্যিকরা স্পেনের এই বিপদে রিপাবলিকান আর্মির পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। দুই বাঙালিও ছিলেন তাঁদের পাশে। একজন অধ্যাপক হীরেন মুখোপাধ্যায়, অন্যজন স্নেহাংশুকান্ত আচার্য চৌধুরি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন