চণ্ডী লাহিড়ী
পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সততা ও চরিত্রবত্তাকে আজীবন সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। এ ব্যাপারে ত্রুটি থাকায় নিজ পুত্রকে যেমন ত্যাগ করেছিলেন, নিজ জামাতাকেও ছেড়ে দেননি। বিদ্যাসাগর-বিশেষজ্ঞ বন্ধুবর ইন্দ্র মিত্র একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন।

‘কলেজের আয়ব্যয়ের খাতা দেখতে দেখতে বিদ্যাসাগর একদিন লক্ষ্য করলেন হাজার দু তিন টাকা ঘাটতি পড়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ তখন সূর্যকুমার অধিকারী। বিদ্যাসাগর বললেন—‘সূর্যি, হিসাবটা একবার দেখোতো। আমি তিনদিন বাদে আবার আসব।’
তিনদিন বাদে এলেন। জিজ্ঞেস করলেন—‘সূর্যি, হিসেব মিলল?’
অধ্যক্ষ মাথা চুলকোতে লাগলেন। কোনো সদুত্তর দিতে পারলেন না। বিদ্যাসাগর বললেন—‘টাকার যদি দরকার ছিল তো আমায় বললে না কেন? এ কি আমার বাপের টাকা! যাক, আজ থেকে তোমায় আর প্রিন্সিপ্যালগিরি করতে হবে না।’ তারপর উচ্চকন্ঠে হাঁকলেন—‘বদ্যিনাথ।’
বৈদ্যনাথ বসু হাজির হলেন। বিদ্যাসাগর বললেন, ‘আজ থেকে তুই কলেজের প্রিন্সিপ্যাল।’
বিদ্যাসাগরের জামাই হয়েও সূর্যকুমার রেহাই পেলেন না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন