চণ্ডী লাহিড়ী
প্রবীণদের কাছে কানাকেষ্ট নামটাই এক নস্টালজিয়া। কৃষ্ণচন্দ্রদের কীর্তন সম্পর্কে বলতে না পারেন এমন বাঙালি খুব কম। চলচ্চিত্রে তিনি গান গেয়েছেন। অভিনয় করেছেন এবং অনেককে গান শিখিয়েছেন। তা ছাড়া বহুসংগীতের সুরকার ছিলেন তিনি।

একবার তাঁর মদন ঘোষ লেনের বাড়িতে বসে ভোরবেলা শুনলেন—কে যেন চমৎকার সুরে বেহালা বাজাচ্ছে। ভাইপোদের পাঠালেন—এত সুন্দর বাজনা কে বাজাচ্ছে খবর নাও। পারলে বাড়িতে ডেকে আনো।
যিনি বাজাচ্ছেন তিনি একজন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। হেঁদুয়া পার্কের সুইমিং পুলের মাথায় বসে সূর্যোদয়ের আগে একটি রাগ বাজিয়ে চলেছেন। ভদ্রলোকের নাম মি. টাওয়ারিশ। তাঁকে অনুরোধ করে ভাইপোরা নিয়ে এল কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে। কৃষ্ণচন্দ্র এই মি. টাওয়ারিশের বাজনার সঙ্গে মিলিয়ে একটি গানের রেকর্ড করলেন।
খেয়াল হল, বাংলা গানের জন্য অনেক কিছু করেছেন এবার হিন্দুস্থানি গানে গলা দেবেন। ওস্তাদ রেখে উর্দু শিখলেন। রপ্ত করলেন উর্দু উচ্চারণ ও ভাষায় দক্ষতা। এইচ.এম.ভি. তাঁর হিন্দি গান রেকর্ডে প্রথমে রাজি হল না। পরে দিল্লি থেকে আগত উর্দু পন্ডিতদের চাপে কৃষ্ণচন্দ্র হিন্দুস্থানি গানও রেকর্ড করলেন।
তাঁর এই হিন্দি গানের খবর তেমন প্রচার পায়নি। উর্দু ভাষার চর্চাটা তিনি আজীবন চালিয়ে গেছেন। বহু উর্দু শায়েরি তাঁর কন্ঠস্থ ছিল।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন