চণ্ডী লাহিড়ী
জোসেফিনা ছিলেন এক বিচিত্র রমণী। নেপোলিয়নকে কোনোদিনই পরিপূর্ণ ভালোবাসা দেননি। নেপোলিয়ন যখন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যস্ত তখন রোজ পরপুরুষ ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। নেপোলিয়ন এতে রাগ করলেও প্রকাশ্যে কোনো ক্ষোভ দেখাননি। হয়তো স্বামী হিসাবে জোসেফিনার সব অভাব তিনি দূর করতে পারেননি। অথচ জোসেফিনা তখন বিগতযৌবনা। জীবনযাপনে প্রবল বিলাসিতা। সংসারে প্রচুর খরচ। দুটি ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ—সব সামলাতে ভরসা তো সেই নেপোলিয়ন। জোসেফিনার স্বাস্থ্য ভাঙছে। সন্তানধারণে তিনি অক্ষম।

১৮০৪ সালে নেপোলিয়ন সম্রাট হয়েই উপলব্ধি করলেন, সিংহাসনের উত্তরাধিকারী দরকার। জোসেফিনা জানালেন সন্তানধারণ সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে সম্রাট নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার রাজকুমারী মেরি লুইকে বিয়ে করলেন। বাধা ছিল রোমান ক্যাথলিক ধর্মে, আগের বউকে ত্যাগ করা সহজ নয়। তবু অনেক জল ঘোলা করে আগের বিয়ে রদ হল। অস্ট্রিয়ার রাজকুমারীকে বিয়ে করলেও, জোসেফিনার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি। সম্রাটের নতুন বিয়ের পর জোসেফিনা বুঝতে পারলেন। নেপোলিয়নকে অনেক কিছু তিনি দিতে পারতেন কিন্তু দেননি। তখন বড়োই দেরি হয়ে গিয়েছে।
সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসিত জীবনযাপনকালে সঙ্গে নিয়েছিলেন প্রচুর বই আর জোসেফিনার স্মৃতি। মৃত্যুকালেও যে নামটি উচ্চারণ করেছিলেন সেটাও জোসেফিনা। বাঞ্ছিত রমণীকে কোনোদিনই নেপোলিয়ন সম্পূর্ণ পাননি, তবু নিজে অনুগত ছিলেন আজীবন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন