চণ্ডী লাহিড়ী
পরাধীন ভারতবর্ষে ইংরেজরা অত্যাচার করেছে খুব। লুন্ঠন ও শোষণের মারফত গোটা দেশটিকে অন্তঃসারশূন্য করে তুলেছিল। উলটোদিকে এদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিদেশে তুলে ধরার ব্যাপারেও তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়।
সংস্কৃত ভাষার চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল কয়েকজন পন্ডিতের মধ্যে। ইংরেজ শাসকদের মধ্যে অনেকের মনেই জ্ঞানের অনুসন্ধিৎসা ছিল প্রবল। তাঁরা কেবল যে সংস্কৃত শিখেছিলেন তাই নয়, সংস্কৃত সাহিত্য সেরা বইগুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করে ইউরোপে তুলে ধরেন।
পশ্চিমের পন্ডিতদের কাছে সংস্কৃত ভাষা ও তার সাহিত্যের বিপুল ঐশ্বর্যের কথা প্রথম তুলে ধরেন ফাদার টমাস স্টিফেন্স (Father Thomas Stefens)। তিনি প্রথম লেখেন কোঙ্কনি ভাষার গ্রামার। নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড লেখেন বাংলা ব্যাকরণ ১৭৮৪ সালে। সংস্কৃত ভাষা রপ্ত করে চার্লস উইলকিনস বহু দুর্লভ পুঁথির পাঠোদ্ধার করেন। বাংলা অক্ষর নির্মাণেও চার্লস উইলকিনস অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে বড়ো কাজটি করেছিলেন সার উইলিয়ম জোনস। ১৭৮৪-তে এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা তাঁর সবচেয়ে বড়ো কীর্তি। কালিদাসের শকুন্তলা, মনুর বিধান— এসবই তিনি ইংরাজিতে অনুবাদ করেন। সংস্কৃত এবং ফারসি ভাষার মধ্যে যে বিপুল মিল আছে— এ নিয়ে তিনি তুলনামূলক আলোচনা করে দেখান। উইলিয়ম কেরি বাংলায় সাধারণ মানুষের কথোপকথন, ব্যাকরণ, অভিধান এসব নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে গেছেন। তাঁর সবচেয়ে বড়ো কীর্তি বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় বাইবেলের অনুবাদ।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন