চণ্ডী লাহিড়ী
১৯৩৫ সালে বাংলা দেবদাস চলচ্চিত্র জগতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করল। নিউ থিয়েটার্স ঠিক করল, বাজার গরম থাকতে হিন্দি দেবদাস নির্মাণ করবে। প্রমথেশ বড়ুয়া ছিলেন বাংলা দেবদাসের নায়ক। কিন্তু বিন্দুমাত্র বাংলা না জেনেও দুটি বাংলা গান গেয়ে অসম্ভব জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কুন্দনলাল সায়গল। ঠিক হল, সাইগল হিন্দি দেবদাসে নায়ক হবেন। তাহলে গান গাইবে কে? সেসময় বাংলা সিনেমায় গায়ক-নায়ক দুটোই হতে পারেন এমন বিশেষ কেউ ছিল না। পঙ্কজ মল্লিকের নাম উঠল। তিনি বলে দিলেন, তিনি সংগীত পরিচালক, অতএব গাইতে পারবেন না। পাহাড়ী সান্যালকে বলা হল। তিনি সাফ জানালেন, ‘ওরে বাবা, আমি পারব না। কিছুতেই নয়। সাইগল দুর্দান্ত দুখানা গান গেয়েছে, তারপর কারও গান টিকবে না। লোকে হাসবে। তোমরা অন্য কাউকে ধর।’

স্বয়ং প্রমথেশ বড়ুয়া এগিয়ে এলেন অনুরোধ করতে। পাহাড়ী বড়ুয়া সাহেবকে বললেন, ‘সবাই সায়গলের সঙ্গে আমার তুলনা করবে। আমি পাগলামি করতে পারব না।’
সবারই অনুরোধ ফেল করল। এবার খোদ নিউ থিয়েটার্সের মালিক ডেকে পাঠালেন পাহাড়ীকে। কারও সাহস নেই তাঁকে অমান্য করার। অবশ্য বীরেন সরকার কাউকে কটু কথা বলতেন না। কাজ পাগল মানুষ। তিনি বললেন, ‘তোমাকেই করতে হবে পাহাড়ী। তোমার মিউজিকে ট্রেনিং আছে, তৈরি গলা। আমি বলছি, পারলে একমাত্র তুমিই পারবে।’
পাহাড়ী বীরেন সরকারের কথা অমান্য করতে পারলেন না। কিন্তু শর্ত দিলেন, ‘এমনভাবে আমার মেক আপ করবেন যাতে কেউ আমায় চিনতে না পারে। সারা মুখ কালো করে দেবেন। লো-লাইটে ছবি তুলবেন। যাতে কেউ আমায় বুঝতে না পারে।’
এই শর্তেই বীরেন বাবু রাজি হলেন।
হিন্দি দেবদাসে পাহাড়ী সান্যালের মেকআপ দেখে দর্শকরা চিনতে পারেননি। কিন্তু সংবাদপত্রে এবং প্রেক্ষাহলে প্রশ্ন উঠল—এই অসামান্য গলা কার?
সাধারণ অবস্থায় যেটুকু প্রচার তিনি পেতেন, পাহাড়ী সান্যালের নাম আরও বেশি প্রচার পেল। সেই যে গান ছেড়ে এবং গান নিয়ে পাহাড়ী সান্যাল অভিনয় জগতে প্রবেশ করলেন— কোনোদিন পিছনে তাকাতে হয়নি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন