চণ্ডী লাহিড়ী
শেকসপিয়র ও তাঁর নাটককে নিয়ে বিশ্বে গবেষণা যেমন প্রচুর হয়েছে, চিত্রশিল্পীরাও সর্বাধিক সংখ্যক চিত্র রচনা করেছেন তাঁকে নিয়ে। প্রথম যাঁর নাম এই প্রসঙ্গে উঠে আসবে তাঁর নাম টমাস স্টর্টহার্ড। সারাজীবন স্টর্টহার্ড প্রায় পাঁচ হাজার ছবি এঁকেছেন শেকসপিয়রকে নিয়ে। তাঁর নাটকের চরিত্রগুলিই ছবির বিষয়বস্তু।
আর এক শিল্পী উইলিয়ম মালরেডি। শেকসপিয়র বর্ণিত মানুষের সাতটি অবস্থার চিত্র একসঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ১৮৩৭ সালে প্রি র্যাফেলাইট স্টাইল তিনি অবলম্বন করেছিলেন।

শেকসপিয়রকে নিয়ে চিত্রশিল্পীদের পাগলামির সবচেয়ে বড়ো নিদর্শনটি রেখেছেন যোশিয়া বয়ডেল। একদিন
খাবারের টেবিলে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির সামনে একটি মূল্যবান প্রস্তাব পেশ করলেন বয়ডেল। শিল্পীরা তো কেবল নানা ভঙ্গিতে প্রতিকৃতি এঁকেই চলেছেন। প্রতিকৃতি তো উচ্চাঙ্গের আর্ট নয়।
বয়ডেল বললেন—শেকসপিয়রের নাটকে বহু চরিত্রের উত্থান পতনের নিদর্শন আছে। আসুন আমরা সবাই শেকসপিয়রকে অবলম্বন করে ছবি বানিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করি।
ডাক দেবার সঙ্গে সঙ্গে স্টুডিয়োতে স্টুডিয়োতে শুরু হয়ে গেল শেকসপিয়রকে নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা। সমসাময়িক কালের খ্যাত-অখ্যাত প্রায় সবাই একাজে এগিয়ে এসেছিলেন। বয়ডেলের এই উদ্যোগ চিত্রশিল্পের ইতিহাসে কিংবদন্তীতে দাঁড়িয়েছে। ইংরেজি বাকবিধিতে ‘বয়ডেল কল’ অর্থাৎ বয়ডেলের আহ্বান প্রবাদে স্থান পেয়েছে। ১৭৮৯ সালের মধ্যেই বহু ছবির কাজ শেষ হয়ে গেল। পলমলের কাছে তৈরি হল এক অভিনব চিত্রশালা—সেখানে কেবল শেক্সপীয়রকে কেন্দ্র করে রচিত ছবি থাকবে। বিশ্বের ইতিহাসে কোনো নাট্যকারকে নিয়ে ছবি আঁকার শিল্পীদের এত বড়ো উদ্যোগ আর কখনো দেখা যায়নি। স্যার যোশুয়া রেনল্ড রোমনি, ওপিল্ট, স্মির্কে, নর্থকোট, ফুসেলি, হ্যামিলটন, টেসহ্যাম, ওয়েস্টল... কে নেই সেখানে!
জর্জ রোমনি ছিলেন অষ্টাদশ শতকের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ছিলেন তাঁর কালে থার্ড গ্রেটেস্ট পেইন্টার। এই রোমনি এই গ্যালারিতে একটি অসাধারণ মৌলিক ছবি উপহার দিয়েছিলেন। ছবিটির নামকরণটিও করেছিলেন রোমনি—‘শেকসপিয়র নার্সড বাই ট্রাজেডি এণ্ড কমেডি’ একটি নিরাপরাধ সরল উলঙ্গ শিশুকে ঘিরে দুই সুন্দরীর লীলা। শিশুটি স্বয়ং শেকসপিয়র—দুই সুন্দরী রমণী টাজেডি ও কমেডি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন