চণ্ডী লাহিড়ী
বার্নাড শ’ ছিলেন খুব গরিব ঘরের ছেলে। প্রথম যে চারটি উপন্যাস লেখেন, সেসব ফ্লপ করে। তারপর একদিন আয়ার্ল্যাণ্ড ছেড়ে চলে আসেন লণ্ডনে। দিনের বেলা কাগজ বিক্রি এবং দুপুরে ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়াশোনাই ছিল তাঁর প্রধান কাজ।

যে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতেন সেখানে তাঁর পাশের টেবিলে এক দাড়িওয়ালা মানুষ টেবিলে প্রচুর বই নিয়ে গুছিয়ে বসতেন। কারও সঙ্গে আলাপ পরিচয় করতেন না। আপাতদৃষ্টিতে খুবই গম্ভীর মানুষ।
শ’ লক্ষ করলেন, দাড়িওয়ালা এই প্রবীণ পাঠকটিকে লাইব্রেরির সবাই খুব সমীহ করে চলে। একদিন সাহস করে সেই মানুষটির সঙ্গে আলাপ করলেন। শ’ তাঁকে বললেন, আয়ার্ল্যাণ্ডে তাঁর বাড়ি। সেখানে যে চারটি বই লিখেছিলেন বাজারে তা চলেনি। নতুন কী লিখবেন তাই নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন।
দাড়িওয়ালা বৃদ্ধ তাঁকে বললেন, যারা গরিব, সমাজে যাদের কথা কেউ আলোচনা করে না। যারা ব্রাত্য, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে যারা বঞ্চিত, পারলে তাদের কথা লেখো। সমাজের একটা পরিবর্তন আনা দরকার।
আলোচনার শেষে শ’ সেই দাড়িওয়ালা বৃদ্ধকে তাঁর নাম জিজ্ঞাসা করলেন। জবাব পেলেন—কার্ল মার্কস।
মার্কসের রচনাবলিকে কেন্দ্র করে মার্কসবাদ বলে একটি তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হলেও, মার্কস-প্রচারিত কম্যুনিজম নিয়ে শ’-এর কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তিনি জানতেন, মারামারি খুনোখুনির মধ্য দিয়ে স্থায়ী বিপ্লব হয় না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন